ফুটবল খেলা যারা পছন্দ করেন—তাদের কাছে স্পেনের বার্সেলোনা যেমন প্রিয়স্থান, তেমনি মোবাইল বিশ্বের কাছেও এখন তাই। মেসি, জাভি আর ইনিয়েস্তাদের শহরে আজ থেকে শুরু হচ্ছে মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস। এই আয়োজনের মধ্যে কোনো গ্ল্যামার নেই। তবে বিশ্বব্যাপী মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের লাভ-ক্ষতি আর নতুন সেবা প্রযুক্তি হাতের নাগালে পাওয়ার সুযোগ এ আয়োজনে আছে। মোবাইল প্রযুক্তিজ্ঞানের বিশ্বসেরা মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসের এটি ১৮তম আসর। আজসহ চারদিন এ সম্মেলন চলবে। স্থানীয় সময় আজ সকাল সাড়ে নয়টায় এ সম্মেলন শুরু হবে।
১২৫টি দেশের ৭০ হাজারের মত বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন দেশের সরকারের নীতিনির্ধারক, অপারেটর, হ্যান্ডসেট প্রস্তুতকারক, কনটেন্ট প্রোভাইডার, ইন্টারনেট প্লেয়ার্স, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মিলনমেলায় এখন বার্সেলোনা শহরটি সেজেছে। এ সম্মেলনে মূলত ডিভাইস, সফটওয়ার, মোবাইল সার্ভিস, প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তি সংক্রান্ত ব্র্যান্ডের নানা দিক নিয়ে কথা হবে। নতুন নতুন প্রযুক্তি পণ্যের প্রদর্শনী হবে। একজন আরেকজনের নতুন সেবা কার্যক্রম থেকেও অভিজ্ঞতা নেবে। এ সম্মেলনে কয়েক ডজন সেমিনারও অনুষ্ঠিত হবে। বার্সেলোনায় এ নিয়ে ৮ম বারের মতো এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বার্সেলোনাবাসীদের কাছে ফুটবল হচ্ছে ভালোবাসার প্রতীক। আর মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস করে নিয়েছে গর্বের জায়গা। ইতিমধ্যে কাতালান সিটিকে জিএসএমএ অ্যাসোসিয়েশন মোবাইল বিশ্বের রাজধানী হিসাবে ঘোষণা দিয়েছে। এই সম্মেলনের আয়োজক জিএসএমএ অ্যাসোশিয়েশন। ২০০৬ সাল থেকে বার্সেলোনাতেই টানা বসছে মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসের এ আয়োজন। গত বছরের আয়োজনে অর্ধশতাধিক দেশের দেড় হাজারেরও বেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করে। সেইবার সব মিলে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল অর্ধলক্ষাধিকের কিছু বেশি। এবার প্রদর্শনী স্টল আর অংশগ্রহণকারী সব সংখ্যাই আগের যে কোন রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন ।
প্রস্তুতির শেষ দিনেও গতকাল রবিবার হাজার হাজার কর্মী মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসের আয়োজনকে পূর্ণতা দিতে ব্যস্ত ছিলেন। বিভিন্ন দেশের শতশত সংবাদকর্মী এ দিন তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন করে ব্যাগেজ সংগ্রহের কাজ শেষ করেছেন। বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যানসহ সরকারের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটরের শীর্ষ কর্মকর্তারা বার্সেলোনায় গতকাল এসে পৌঁছেছেন। এছাড়া আরো অনেকেই সম্মেলনে যোগ দিতে আসছেন।
