গ্রামে-গঞ্জে অনলাইনে বিদ্যুত্ বিল পরিশোধ জনপ্রিয় হচ্ছে

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৪
ইউনিয়নে বসেই অনলাইনে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিদ্যুত্ বিল পরিশোধ করার সুবিধা যোগ হলো। ডিজিটাল সুবিধার ছোঁয়া লাগলো প্রত্যন্ত গ্রামে। যশোরের প্রায় ১০টি ইউনিয়নে এই সুবিধা শুরু হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিল জমা নেয়া হয়। গ্রাহকদের এই সেবা দেয়ার বিনিময়ে তারা বিলপ্রতি পাঁচ টাকা সার্ভিস চার্জ নেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই কার্যক্রম তদারকি করা হয়। গত বছরের এপ্রিল মাসে অনলাইনে বিদ্যুত্ বিল নেয়ার এই কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে শুরু হয়। সূত্র জানায়, পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১-এর আওতাভুক্ত সদর উপজেলার দুটি ছাড়াও চলতি মাস থেকে শার্শা, ঝিকরগাছা, চৌগাছা ও বাঘারপাড়া উপজেলার একটি করে ইউনিয়নে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-২-এর আওতায় মনিরামপুরের রহিতা, ঢাকুরিয়া, নেহালপুর ও কাশিমনগর ইউনিয়নে এ মাসে তথ্যসেবা কেন্দে বিল নেয়া শুরু হয়েছে। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার মো. সালাউদ্দিন আল-বিতার জানান, যশোর ও নড়াইলের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই কার্যক্রম ছড়িয়ে দেয়া হবে। শনিবার আরবপুর ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দে (ইউআইএসসি) সরেজমিনে দেখা গেছে, পল্লী বিদ্যুতের বিল হাতে একজন-দুজন করে আসছেন ইউনিয়নের পতেঙ্গালী, বিপতেঙ্গালি, রঘুনাথপুর, ভেকুটিয়া, সুজলপুর, পাকদিয়া, বাঁশবাড়িয়া, এড়েন্দা ও দুর্গাপুর গ্রামের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। এদের বেশিরভাগ মহিলা। কর্মজীবী স্বামীকে কাজ বন্ধ করে যেন বিল হাতে শহরে ছুটতে না হয়, সেজন্যই তারা সেবা কেন্দে বিল পরিশোধের কাজে এসেছেন। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, চার কিলোমিটার দূরে শহরের ব্যাংকে যেয়ে এক-আধ ঘণ্টার লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে বিল দেয়ার বিড়ম্বনা থেকে আমরা রেহাই পেয়েছি।’ মুদি দোকানদার আব্দুস সামাদ জানান, বাসার বিল এখানে দেয়া গেলেও দোকানের বিল জমা নিচ্ছে না। আমরা চাই দোকানের বিলও (বাণিজ্যিক বিল) যেন এখানে নেয়া হয়। আরবপুর ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দে র উদ্যোক্তা এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিদ্যুত্ বিল সংগ্রহকারী মো. আরিফুজ্জামান আরিফ জানান, পল্লী বিদ্যুত্ অফিসে আমার নামে হিসাব খোলা আছে। ওই হিসাবে টাকা জমা দিয়ে রিচার্জ করি। ২-৩ দিন পর পর ২৫-৩০ হাজার টাকা রিচার্জ করা লাগে। গ্রাহকদের বিল এন্ট্রি দেয়ার পর আমার রিচার্জ করা টাকা সমন্বয় হয় এবং বিল পরিশোধও এন্ট্রি হয়ে যায়। যশোর পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার এ.এইচ.এম নজমুল ইসলাম জানান, গত বছরের এপ্রিল মাসে পাইওনিয়র প্রজেক্ট হিসেবে রামনগর ও আরবপুর ইউনিয়নে এটা চালু হয়। প্রথমদিকে উদ্যোক্তা তিন হাজার টাকা রিচার্জ করতেন। এখন ৬০-৭০ হাজার টাকা করছেন। জমা শেষ পর্যায়ে আসার পর নতুন করে রিচার্জ করা লাগে। সেবা কেন্দে বিদ্যুত্ জমা দেয়া ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। জনপ্রিয়তা বাড়াতে গ্রামে গ্রামে মাইকিং, স্থানীয় ডিশ চ্যানেলে বিজ্ঞাপন এবং ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিদ্যুত্ বিল শোধ করার সফটওয়্যার তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান সিএসিটিএস লি.-এর পরিচালক মোস্তফা আশীষ ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, সফটওয়্যারের চ্যালেঞ্জ হলো এর কার্যকারিতা বিশ্বাস করানো। আর্থিক লেনেদেনে স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক জটিলতাও একটা চ্যালেঞ্জ। সে সমস্যা এখন নেই। সৃষ্টির আনন্দ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করছি। সফটওয়্যার সৃষ্টির চেয়েও কঠিন হলো বাস্তবায়ন করা।