মানিকগঞ্জে হরতালকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, নিহত ৪

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৬
ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের ডাকা হরতালে গতকাল রবিবার সিংগাইরে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে হরতাল সমর্থক ৪ জন নিহত ও থানার ওসিসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকেই গুলিবিদ্ধ। তাদেরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা স্কয়ার হাসপাতাল, সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হরতাল চলাকালে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশের ৩টি মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করা হয়। এ ব্যাপারে গ্রেফতার করা হয়েছে ৫ জনকে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৬টার দিকে হরতালকারীরা ঢাকা-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ সড়কের সিংগাইর গোবিন্ধল বাসস্ট্যান্ডে যানবাহন ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও যাত্রী সাধারণকে মারধর করে। এর পর কাশিমনগর বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাজেদ খানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। এরই জের ধরে হরতাল বিরোধীরা বিএনপি কার্যালয়, ১টি কম্পিউটার দোকান ও ১টি ওষুধের দোকান ভাংচুর করে এবং জামায়াত সমর্থক সিনহা খসরু নামে এক ব্যক্তিকে রাস্তায় এনে মারধর করে। এর পরই হরতাল সমর্থকরা গোবিন্ধল নতুন বাজারে অবস্থান নেয়। রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়। পুলিশ পিকেটারদের ছত্রভঙ্গ করতে চাইলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় কয়েকশ’ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়। এ সময় গোবিন্ধলের মাদ্রাসার ছাত্র শাহ আলম (২৩), পৌর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নাজিম উদ্দিন (২৮), মাওলানা নাসির ও আলমগীর (৩৫) নিহত হন। হরতাল বিরোধী ছাত্রলীগ নেতা মো. ফারুক হোসেন মিরু, আবু সাইদ এবং সিংগাইর থানার ওসি লিয়াকত আলীসহ ২০ জন পুলিশ সদস্যও গুলিবিদ্ধ এবং আহত হন। গুলিবিদ্ধ হন হরতাল সমর্থক গোবিন্ধল গ্রামের শাহীনুর (৩০), দুলাল মিয়া (২০), আলমাছ (৪০), সিদ্দিক (৩০), আকবর (১৮), মানিক (৪০), মামুন (১৮), নওয়াব (১৪), লিংকন (১৫), আনোয়ার (৩০) , ওয়াজেদ (২৫), শাহীন (৩০), হেলেনা (২৬) ও রুবেল (২৮)। জেলা প্রশাসক মাসুদ করিম বলেন, হরতাল সমর্থকরা আশপাশের লোকজন এনে জানমালের ক্ষতিসাধন ও গুলিবর্ষণ করে। পুলিশ তখন আত্মরক্ষার্থে তাদের নিবৃত করে। মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলী গতকাল এ সংঘর্ষ সম্পর্কে ইত্তেফাককে বলেন, হামলার ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত। হামলাকারীরা জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মী এবং এরা কেউই এলাকার লোক নয়। এরা সবাই অপরিচিত। প্রথমে তারা মার্কেটে হামলা ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এর পরই পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। পুলিশ পাল্টা জবাব দেয়। এলাকাবাসীর তথ্যমতে, হামলাকারীরা দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে রাতেই স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় গিয়ে জড়ো হয়। তারা ধংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য সিঙ্গাইরকে বেছে নেয়। এমনকি স্থানীয় অনেক রাজনীতিকরাও হামলাকারীদের অন্য এলাকার লোক বলে জানিয়েছে। তাদেরকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি ইত্তেফাককে জানান। এএসপি সার্কেল কামরুল ইসলাম বলেন, জামায়াত-শিবির ব্যারিকেড দিয়ে আমাদের ঘিরে ফেলে। আমরা তখন প্রতিহত করি। ওরা তখন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪/৫ হাজার লোক এনে আমাদের ওপর হামলা চালায়। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নান বলেন, এই গ্রামে একটিও হাইস্কুল নেই। আছে ১৯টি মাদ্রাসা। গ্রামের প্রায় সবাই স্বাধীনতা বিরোধী । এরা আগের দিন মাদ্রাসায় মিটিং করে এবং রবিবার মাইকে ঘোষণা দিয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায় । এডিশনাল ডিআইজি মিজানুর রহমান এবং মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলী বলেন, পুলিশের অস্ত্র জামায়াত-শিবিরের লোকজন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে পুলিশ এ্যাকশনে যায়। হরতাল সমর্থকরা দোকানপাট, ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে এবং পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ করে। পুলিশও পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে। ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এদিকে নিহতের পরিবারের দাবি, শান্তিপ্রিয় হরতাল চলাকালে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন গুলি চালিয়ে নিরীহ লোকদের হত্যা করেছে। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার মানিকগঞ্জে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে ইসলামী সমমনা ১২ দল।