চট্টগ্রামে বোরো এলাকায় চুরি হচ্ছে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৭
চট্টগ্রামে বোরো এলাকায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হচ্ছে দেদারছে । গত এক মাসে ১৩ উপজেলায় শতাধিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে বোরো চাষ। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি জানায়, ট্রান্সফরমার চুরির মামলা সাধারণ আইনে দায়ের হওয়ায় সাজা সর্বোচ্চ ৬ মাসের বেশি হয় না। বিদ্যুত্ আইনে মামলা হলে দণ্ডাদেশ বেশি দেয়া যায়। ফলে লঘুদণ্ডের কারণে অপরাধীরা জেল থেকে বের হয়ে পুনরায় ট্রান্সফরমার চুরিতে লিপ্ত হচ্ছে। একই অপরাধীরা বারবার ঘটনা ঘটাচ্ছে। তবে ট্রান্সফরমার চুরির সাথে বিদ্যুত্ বিভাগের লোকজনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখন বোরো চাষের ভরা মৌসুম। এমনিতে লোডশেডিংয়ের কারণে চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার উপর ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় কৃষক ও মোটর মালিকরা বিপাকে পড়েছে। চট্টগ্রামে সবচেয়ে ট্রান্সফরমার বেশি চুরি হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলায়। বোরো চাষও এই এলাকায় বেশি হয়ে থাকে। ট্রান্সফরমার একবার চুরি হলে পুনরায় বসাতে সময়ক্ষেপণের পাশাপাশি গ্রাহকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান জানান, আগের চেয়ে ট্রান্সফরমার চুরি কিছুটা কমেছে। তবে গত দেড় মাস প্রচুর ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। চট্টগ্রামে ৩টি পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি এলাকায় বোরো চাষ হয়। সমিতি-১ (পটিয়া) এর অধীনে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৭টি উপজেলা রয়েছে। এসব এলাকায় অন্তত ৫ হাজার বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার রয়েছে। বোরো চাষের সময় অসংখ্য ট্রান্সফরমার বসানো হয়। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির ট্রান্সফরমারগুলো ৫ কেভি থেকে ৭৫ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন। সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণ ৫ থেকে ২৫ কেভি পর্যন্ত ট্রান্সফরমারগুলো ছোট আকৃতির হওয়ায় বেশি চুরি হয়। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. ইউসুফ ইত্তেফাককে বলেন, ‘গত জানুয়ারি মাসে প্রায় ২৩টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৮টি চুরি হয়েছে। তবে চুরি হওয়ার পর দ্রুত ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হচ্ছে। যাতে বোরো চাষ ব্যাহত না হয়।’ সূত্র জানায়, ট্রান্সফরমার একবার চুরি হলে ট্রান্সফরমারের ক্রয়ের মূল্যের ৫০ শতাংশ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি- ও ৫০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে দিতে হয়। তবে দ্বিতীয়বার চুরি হলে ট্রান্সফরমারের পুরো টাকা গ্রাহককে পরিশোধ করতে হয়। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-৩ (সীতাকুন্ড) এর আওতায় রয়েছে মিরসরাই, সীতাকুন্ড ও হাটহাজারী উপজেলা। সমিতি-৩ এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী আবদুল কুদ্দুস ইত্তেফাককে বলেন, ‘এবার বোরো মৌসুমে ৪/৫টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। গত বছর হয়েছে ৬৭টি, এর আগের বছর হয়েছে ১৬৮টি ট্রান্সফরমার। তবে এখন চুরি কিছুটা কমেছে। বিদ্যুত্ আইনে মামলা হলে চুরি অনেকাংশে কমে যেতো।’পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-২ (রাউজান) এলাকায় এই পর্যন্ত প্রায় ৪০টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা গত বৃহস্পতিবার পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার দ্রুত স্থাপনের পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।