হরতালে ঢাকায় আতঙ্ক থাকলেও জনজীবন ছিল প্রায় স্বাভাবিক

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৮
ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের ডাকা গতকালের হরতালে রাজধানীর জীবনযাত্রা প্রায় স্বাভাবিক ছিল। তবে জনমনে বিরাজ করছিল এক ধরনের আতঙ্ক। ঢাকার ধানমণ্ডি ও দৈনিক বাংলার মোড়ে কয়েকটি হামবোমার বিস্ফোরণ এবং যাত্রাবাড়ীতে একটি লেগুনায় আগুন দেয়া ছাড়া নগরীর কোথাও উল্লেখ করার মত কোনো ঘটনা ঘটেনি। হরতাল আহ্বানকারীদেরও মাঠে দেখা যায়নি। দুই তিনটি স্থানে তারা ঝটিকা মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ ব্যর্থ করে দেয়। বরং হরতাল বিরোধী মিছিলে সরব ছিল নগরীর বেশিরভাগ এলাকা। হরতালকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মূল সড়ক ছাড়াও রাজধানীর প্রতিটি মোড়ে ও গুরুত্বপূর্ণ অলি-গলিতে পুলিশ-র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল করলেও দূরপাল্লার বাস কম ছেড়েছে:বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত এই হরতালে রাজধানীতে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করেনি বললেই চলে। প্রচুর রিকশা ও অটো রিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করেছে, তবে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সব ট্রেন নির্ধারিত সময়ই ছেড়ে যায়। মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে ময়মনসিংহগামী দূরপাল্লার কিছু বাস ছাড়তে দেখা গেছে। তবে সায়দাবাদ ও গাবতলী টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাস ছাড়তে দেখা যায়নি। সদরঘাটে লঞ্চ চলাচলও ছিল স্বাভাবিক, সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ৫টি লঞ্চ দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের দিকে ছেড়ে যায়, তবে যাত্রী সংখ্যা কম ছিল। বেশিরভাগ দোকানপাট ও বিপণি বিতান খোলা থাকলেও গ্রাহক কম ছিল। অবশ্য অফিস-আদালতে স্বাভাবিক কার্যক্রম হয়েছে। লেগুনায় আগুন, হামবোমা বিস্ফোরণ:রাজপথে মিছিল-পিকেটিং না থাকলেও চোরাগুপ্তা হামলা চালিয়ে যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে রাস্তার পাশে থেমে থাকা একটি লেগুনায় আগুন দেয়া হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এছাড়া দৈনিক বাংলা মোড়ের পানির ট্যাংকির কাছে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। সেখান থেকে মতিঝিল থানার পুলিশ সাত-আটজনকে আটক করে। এছাড়া ধানমণ্ডি এলাকায় কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে। শ্যামপুর থানার ধোলাইপাড়ে হরতালের সমর্থনে কয়েকজন মিছিলের চেষ্টা করলেও পুলিশের ধাওয়ায় তারা পালিয়ে যায়। সকাল ১০টার দিকে কামরাঙ্গিরচর এলাকায় হরতালের পক্ষে একটি সংক্ষিপ্ত মিছিল হয়। এছাড়া ফজরের নামাজের পর কাওরান বাজারের আম্বরশাহ জামে মসজিদের সামনে কিছু মানুষ জড়ো হলে পুলিশ ৮/১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়লে তারা চলে যায়। হরতাল বিরোধী মিছিল:ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর গতকালের এই হরতাল কর্মসূচি প্রতিরোধের ডাক দেয় শাহবাগের ‘গণজাগরণ মঞ্চ’। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে সকালে রাজধানীর শাহবাগ থেকে দৈনিক বাংলার মোড় পর্যন্ত মিছিলে অংশ নেয় কয়েক হাজার মানুষ। মিছিল হয়েছে ঢাকার অন্য স্থানেও। গণজাগরণ মঞ্চের পাশাপাশি সকাল থেকে পল্লবী, বংশাল, মহাখালী, নিউমার্কেট, হাজারীবাগসহ বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর ব্যানারে হরতাল বিরোধী মিছিল হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বরে এবং প্রায় কাছাকাছি সময় পল্লবীতে দুটি মিছিল বের করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। মহাখালী এলাকায় ছাত্রলীগের তিতুমীর কলেজ শাখার নেতাকর্মীরা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মিছিল চালিয়ে যায়। হরতাল বিরোধীরা মোটর সাইকেল ও রিকশা মিছিলও বের করে মহাখালী-গুলশান সড়কে। বেলা ১১টার দিকে বংশাল ও কোতয়ালি থানা আওয়ামী লীগ যৌথভাবে একটি হরতাল বিরোধী মিছিল বের করে। সাড়ে ১১টার দিকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের যৌথ উদ্যোগে হাজারীবাগে একটি হরতাল বিরোধী মিছিল দেখা যায়। এসব মিছিল থেকে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের শ্লোগান দেয়া হয়, দাবি জানানো হয় যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে হরতালের বিপক্ষে কাওরান বাজারে অবস্থিত তিতাস গ্যাস কোম্পানির অফিসের সামনে তিতাস গ্যাসের কর্মচারী ইউনিয়ন কিছুক্ষণ অবস্থান নেয়। এ সময় তাদের প্রত্যেকের হাতে লাঠি ছিল, লাঠি উচিয়ে তারা হরতালের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়। গত শুক্রবার বাদ জুমা সারাদেশে মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দেয় সমমনা ও ইসলামী ১২টি দল। সেদিন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ঢাকার বাইরে চারজন নিহত হন। এর প্রতিবাদে গতকাল সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকে ১২ দল।