অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু হবে, তবে কেউ যদি আসতে চায় মোস্ট ওয়েলকাম। বিশ্বব্যাংক প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন যাওয়ার প্রাক্কালে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় হেয়ার রোডস্থ সরকারি বাসভবনে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাতিল হলেও অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সাথে আলোচনা করবো। এছাড়া এ প্রকল্প নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আমাদের যথেষ্ট ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এ ভুল বোঝাবুঝির প্রভাব অন্যত্র যাতে না পড়ে বিশ্বব্যাংক প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের এটাও একটা কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করলে বিদেশি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো আসবে কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বিদেশি ঠিকাদাররা যাতে আসতে আগ্রহী হয়, অর্থের নিশ্চয়তা পায় সেজন্য ১৮০ কোটি ডলারের একটি পৃথক এফসিএ (ফরেন কারেন্সি একাউন্ট) খোলা হবে। তবে দরদাতাদের সঙ্গে কোন আলোচনা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের যে পরিকল্পনা সেটা আমরা ইতিমধ্যেই অন্যান্য দাতাগোষ্ঠীকে জানিয়েছি, বিশ্বব্যাংককেও এটা জানানো হবে। তারা যদি আসতে চান, আসেন, যখন ইচ্ছে তখন।
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে বৈদেশিক উত্স থেকে আমাদের যে আয় আছে এতে করে পদ্মা সেতু নির্মাণে কোনো সমস্যা হবে না, আর দেশীয় সম্পদে করলে কোনোদিনই সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বছরে ৫ হাজার কোটি টাকা করে পাঁচ বছর শুধু পদ্মা সেতুর জন্য ব্যয় করা হবে।
প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, যমুনা সেতু যেভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল সেভাবেই একটা স্টিয়ারিং কমিটি করা হবে, তারাই সব সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করলে সেখানে সারচার্জ আরোপ করা হবে কি না এমন পশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো কিছু চিন্তা করিনি। মালয়েশিয়ার প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা চলছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের ১২০ কোটি ডলার অন্য প্রকল্পে স্থানান্তরে ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে কিছু ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
