জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত রেখেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল রবিবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে দুই সদস্যের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ পঞ্চম দিনে যুক্তি উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সুলতান মাহমুদ। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে এক সিম্পোজিয়ামে গোলাম আযম বলেছিলেন, ঘরে ঘরে দুশমন রয়েছে। তারা বাইরের দুশমন থেকে বিপজ্জনক। তারা পাকিস্তানের এক নম্বর দুশমন ভারতকে বন্ধু বলে বিবেচনা করছে। এ মুহূর্তে দেশ রক্ষার দায়িত্ব হলো সেনাবাহিনীর আর জনগণকে বোঝানোর দায়িত্ব শান্তি কমিটির।
শান্তি কমিটির শীর্ষ তিন নেতার একজন ছিলেন গোলাম আযম। গতকাল রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনে উস্কানি বিষয়ে তৃতীয় অভিযোগের উপর যুক্তি উপস্থাপন করেন। যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আজ সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। গতকাল হরতালের কারণে আসামিপক্ষের কোনো সিনিয়র আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। সহকারী আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম গোলাম আযমের মামলা মুলতবির লিখিত আবেদন করেন। পরে তার উপস্থিতিতেই যুক্তি উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
গতকাল রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগের সপক্ষে ১৯৭১ সালে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকার কাটিং ও সরকারি ডকুমেন্ট থেকে যুক্তি প্রদর্শন করেন। মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনে উস্কানি দেয়ার বিষয়ে আনা তৃতীয় অভিযোগে সুলতান মাহমুদ বলেন, গোলাম আযম প্রত্যক্ষ ও জনসম্মুখে বিভিন্ন উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। গোলাম আযম বলেছিলেন, পাকিস্তান থাকলে মুসলিমরা টিকে থাকবে নইলে তাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, শান্তি কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা পাকিস্তানের অখণ্ডতার দাবি না তুলে ধরলে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নিতো।
গোলাম আযম এক অনুষ্ঠানে বলেন, আমরা বাঙালি ভাইদের বোঝানোর চেষ্টা করবো। সেটা না হলে তাদের এদেশে কোনো স্থান নেই। সুলতান মাহমুদ বলেন, বায়তুল মোকাররমে এক বক্তব্যে গোলাম আযম দেশপ্রেমিকদের ইসলামের শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পাকিস্তান রক্ষায় নতুন করে কর্মী বাহিনী প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
সালাহউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম ৪ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি’র বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম আগামী ৪ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি করেছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এদিন রাষ্ট্রপক্ষের ২১তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হবে। গতকাল সাক্ষীর অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জেয়াদ আল মালুম সময়ের আবেদন পেশ করেন। এছাড়া আসামিপক্ষের আইনজীবী এইচএম আহসানুল হক হেনাও ব্যক্তিগত কারণে উপস্থিত নেই বলে তিনি জানান। পরে ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী সাক্ষীর জন্য ঐ দিন ধার্য করেন।
