উখিয়ায় বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কিত কৃষক

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩১
উখিয়ার ঐতিহ্যবাহী ১৫টি খাল মরা খালে পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ খালের বুকে এখন বোরো চাষাবাদসহ বিভিন্ন শাক-সবজি উত্পাদনের প্রক্রিয়া চলছে। এমতাবস্থায় বোরো চাষাবাদে চাহিদা মতো পানি সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন স্থানীয় কৃষক। সাগর সংলগ্ন উপজেলা শহর উখিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া অধিকাংশ খালে এক সময়ে জোয়ার ভাটা ছিল। জোয়ার ভাটার পানি কাজে লাগিয়ে খালের পার্শ্বে বসবাসরত শতশত পরিবার বোরো আবাদসহ শাক-সবজি ও বিভিন্ন ফলমূল আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসলেও এসব খালগুলোতে বিগত কয়েক বছর ধরে জোয়ার ভাটা হচ্ছে না। হিজলিয়া খালের পারে বসবাসরত বিধবা আমিনা খাতুন (৭০) জানালেন, এখন আর জোয়ার ভাটার পানি আসে না। তাই বসতভিটায় তরিতরকারীর চাষাবাদও হচ্ছে না। রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জামাল উদ্দিন চৌধুরী জানান, নির্বিচারে পাহাড় কাটা, বালি ও পাথর উত্তোলন, খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করার ফলে এসব খালগুলো মরা খালে পরিণত হয়েছে। তাতে শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে শতশত একর জমিতে বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। একই ভাবে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ বেড়ে যায়। তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে এসব খালগুলো পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় আনা হলে এসব সমস্যা পোহাতে হতো না। উপরন্তু চাষাবাদের ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব ছিল। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ জানান, খাল, নদী-নালা ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে ভূর্গস্থ পানির স্তর অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে ৮/১০ ফুট গভীরে অবস্থান করছে। ফলে গভীর-অগভীর নলকূপের সাহায্যেও পানি উত্তোলন করে সেচ সমস্যা সমাধান হয় কিনা তা বুঝা যাচ্ছে না। সরেজমিন এ উপজেলার পালংখালী খাল, থাইংখালী রহমতের বিল, তেল খোলা, বালুখালী মাছকারিয়া, হাতিমোরা ডিগলিয়া, ডিগলিয়া হিজলিয়া, চাকবৈঠা গয়ালমারা, ভালুকিয়া থিমছড়ি, পাতাবাড়ী পাগলির বিল, হলদিয়া মরিচ্যা, মরিচ্যা গোয়ালিয়া রেজু, দুছড়ি হরিণমারা হিজলিয়া, ইনানী ছোট ও বড় খাল, ছেপটখালী, মনখালী খালসহ প্রায় ২শত কিলোমিটার খালের বিভিন্ন অংশে স্থানীয় কৃষকেরা বোরো আবাদ, আলু, মরিচ, বেগুনসহ নানান রকমের সবজির চাষাবাদ করছেন। হাতিমোরা গ্রামের পান্তিক কৃষক নজির আহাম্মদ (৬৫), মোহাম্মদ কালু (৫৫) ও শহর আলী (৪৫) জানান, নিজস্ব কোন জমি-জমা না থাকায় পানি শূন্য খালের বুকে বোরো চাষাবাদ করার চেষ্টা চালাচ্ছি। ফলিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান (৫০) জানান, পল্লীবিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ যন্ত্রগুলো অচল হয়ে পড়েছে। রাত ১১ টার পর কিছুক্ষণ বিদ্যুত্ থাকলেও ঐসময় সরবরাহকৃত পানি দিয়ে বোরো চাষাবাদের কোন উপকারে আসছে না। একাধিক কৃষক জানালেন, পানির অভাবে চাষাবাদের জমিগুলো ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিদ্যুতের চলমান এ অবস্থার উন্নতি না হলে বোরো চাষাবাদ ব্যহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।