যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা অভিযোগ নিষ্পত্তি করে সরকার ও রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়েছে। গতকাল রবিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ আদেশে এ আহবান জানান। এর আগে সকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নিয়ে মন্তব্যের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার পক্ষে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান এ ব্যাখ্যা ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন।
আদেশের আগে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমরা আশা করি তিনি এ ধরনের বক্তব্য দেয়া থেকে আগামীতে বিরত থাকবেন। এ সময় মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মিসরের রাজধানী কায়রোয় বাংলাদেশ দূতাবাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রায়ের বিষয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু দিন নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। এরপরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কারণে ট্রাইব্যুনালের কোন ধরনের অবমাননা হলে তার জন্য তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি মিসরের রাজধানী কায়রোতে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রাইব্যুনালের বিচারের রায় নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনটি পত্রিকায় এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম গত ৩ ফেব্রুয়ারি মৌখিকভাবে মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনার আবেদন করেন। আদেশে আরো বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে এমন বক্তব্য আশা করা যায় না। এতে জনগণের মাঝে ভুল ধারণার জন্ম হয়।
