ময়মনসিংহের চরাঞ্চলে গম ও ভুট্টা চাষে কৃষক লাভবান

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১১
বিদেশি দাতাসংস্থা সিরিয়ালি সিস্টেম ইনিসিয়েটিভ ফর সাউথ (সিসা) প্রকল্প ময়মনসিংহে অনাবাদী জমিকে নতুন করে চাষের আওতায় এনে গম, ভুট্টা ও সবজি চাষের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। উদ্যোগটি যেমন সফল হয়েছে, তেমনিভাবে কৃষকরাও বেশ লাভবান হচ্ছেন। আগামী মৌসুমে আরো বেশি জমি চাষের পরিকল্পনা কৃষকদের। সিসা প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক গম ও ভুট্টা উন্নয়ন কেন্দ্র সিমিট ময়মনসিংহ জেলায় প্রায় ২শত একর অনাবাদী জমিকে চাষের আওতায় এনে গম, ভুট্টা ও সবজি চাষ করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন। ৫ শতাধিক কৃষক এতে সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলার চর জেলখানার ব্রক্ষ্মপুত্র চরে গিয়ে কৃষক-কৃষাণীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ চরে গম, ভুট্টা ও সবজি চাষ করে তারা বেশ লাভবান হয়েছেন। ময়মনসিংহ জেলার অনেক চরাঞ্চলে প্রধানত একটি ফসল যেমন-মাসকলাই, তিল, ধৈঞ্চা ইত্যাদি আবাদ হতো এবং এমনকি অধিকাংশ সময়ই বছরের পর বছরই অনাবাদীও থেকে যেত। এই সমস্ত জমি বেলে ও বেলে দোআঁশ বিধায় পানি ধারণক্ষমতা অনেক কম। বোরো ধান চাষ করতে হলে ৩০-৬০টি সেচের প্রয়োজন হয়। ফলে খরচ অনেক বেড়ে যায়। তাই বোরো ধান চাষ মোটেই লাভজনক নয়। এ সমস্ত এলাকায় ইউএসএআইডি’র আর্থিক সহায়তায় সিসা-বিডি প্রকল্পের ময়মনসিংহ হাবের সিমিট (আন্তর্জাতিক গম ও ভুট্টা উন্নয়ন কেন্দ্র) অংশ গম ও ভুট্টা চাষ সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে গত ২০১১-১২ সালে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন প্রকারের প্রদর্শনী স্থাপন করে। কৃষকরা আরো জানান যে, তারা নিজেরাই গম বীজ সংরক্ষণ করবেন। গত বছরও তারা গমের বীজ সংরক্ষণ করেছেন। এই বীজ নিজেদের এলাকার চাহিদা মিটিয়েও তারা অন্য গ্রামের কৃষকদের মাঝে বিক্রি করেছেন। সিমিট-এর মহাপরিচালক ড. টম লাম্পকিন, সবাইকে এই প্রযুক্তি অধিক পরিসরে বিস্তার ঘটানোর জন্য পরামর্শ প্রদান করেন। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক নারায়ণ চন্দ্র জানান, চরাঞ্চলের পতিত জমিতে গম ও ভুট্টা চাষ বৃদ্ধি করে কৃষকদের অর্থনৈতিক সফলতা যেমন সম্ভব, তেমনি রয়েছে ব্যাপক সম্ভবনা। সারা দেশের পড়ে থাকা অনাবাদী পতিত জমিকে এভাবে চাষের আওতায় আনতে সক্ষম হলে খাদ্য উত্পাদন আরো বৃদ্ধি পাবে।