বাগেরহাটে চিংড়ি ঘেরের ভেড়িবাঁধের উপর কুলের চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন চাষি নারায়ণ চন্দ্র হালদার। সব খরচ মিটিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা আয় হবে বলে তিনি আশা করছেন। লবণাক্ত এলাকায় চিংড়ি ঘেরের ভেড়িবাঁধের উপর সর্জান পদ্ধতিতে কুলের আবাদ করে অধিক লাভ হওয়ায় ঝুঁকে পড়ছে অন্য চাষিরা। তারা ব্যাপক জমিতে চাষ করার লক্ষ্যে জমি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া গ্রামের নারায়ণ চন্দ্র হালদার তার নিজস্ব ৬৫ একর জমিতে চিংড়ি ঘেরের ভেড়িবাঁধের উপর ২০ একর জমিতে বাউকুল ও আপেলকুলের চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এই ফলন পাওয়ায় তার মুখে হাসি ফুটেছে। নারায়ণ চন্দ্র হালদার জানান, এ এলাকায় লবণাক্ততার মাত্রা বেশি হওয়ায় অন্যান্য ফসল হয় না। ফলে চিংড়ি ঘেরের ভেড়িবাঁধের উপর কুল চাষে ঝুঁকে পড়ে। ৪ বছর আগে ৩টি কুলের চারা রোপণ করে ভাল ফলন হওয়ায় পরের বছর ১৮টি গাছ নিয়ে কুলের চাষ শুরু করি। গত বছর ২৫ লাখ টাকার কুল বিক্রয় করি। এবার প্রায় ৫০ লাখ টাকার কাছাকাছি কুল বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি। তিনি বলেন এ কুল ঢাকার বাদামতলীতে ফলের আড়তে পাঠাই। এছাড়া বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় কুল পাঠানো হয়। তিনি বলেন তার সাফল্য দেখে আশেপাশের চাষিরাও কুল চাষে আগ্রহী হয়েছেন।
বাগেরহাট কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হীরেন্দ্রনাথ হাওলাদার জানান, চাষী নিজের উদ্যোগে কুল চাষে ঝুঁকে পড়েছে। লবণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ফসলে মার খাওয়ায় মত্স্য ঘেরের ভেড়ি বাঁধের উপর চাষি কুল চাষ করে সফলতা পেয়েছে।
