বর্ষা মৌসুমে যাদের অথৈ পানিতে গৃহবন্দি থাকতে হয়, শুষ্ক মৌসুমে তাদেরই পড়তে হয় মারাত্মক পানি সংকটে। ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নে মেঘনার কোলে জেগে ওঠা মাঝেরচরের প্রায় ১০ হাজার মানুষ বর্তমানে এভাবেই ঘর-গৃহস্থালী ও পানিয় জলের অভাবে বর্ণনাতীত দুর্ভোগের শিকার। চতুর্দিকে চলছে পানির জন্য হাহাকার।
১৯৯৯ সালের মধ্যভাগে সরকার এই চরে প্রান্তিক চাষীদের জন্য ৫০টি ব্যারাক নির্মাণ করে। এক একটি ব্যারাকে কমপক্ষে ১০টি পরিবারের থাকার ব্যবস্থা রেখে ঘরের জমি ও স্বত্ব তাদের লিখে দেয়া হয়। পানিয় জল, গৃহস্থালী এবং গোসলের জন্য নির্মাণ করা হয় ৫টি বিশালাকৃতির পুকুর এবং স্থাপন করা হয় ৮০টি গভীর নলকূপ। বর্তমানে মাত্র ৮টি নলকূপ সচল আর পুকুরগুলো গেছে শুকিয়ে। সচল ৮টি নলকূপের আশ্রায়ণ প্রকল্প থেকে দূরুত্ব ২ থেকে ৩ কি.মি.। ফলে প্রতিনিয়ত সেখান থেকে পানি আনা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। অন্যদিকে বেড়িবাঁধ না থাকায় বর্ষাকালে জোয়ারের পানিতে ভেসে যায় পুরো এলাকা। ১ হাজার ২শ’ একর জমির চরটির প্রায় সব কর্মক্ষম যুবকই নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। বর্তমানে নদীতে মাছের আকালের কারণে এদের সংসার চলছে মারাত্মক অভাব-অনটনে। কেরোসিনের উচ্চমূল্যের জন্য অধিকাংশ ঘরেই সন্ধ্যার পর বাতি জ্বলে না। তখন এক নিঝুম দ্বীপে পরিণত হয়।
একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে এখানে। ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৪শত। অবকাঠামোগত দুর্বলতা ছাড়াও আছে আসবাবপত্রের সল্পতা। প্রায় সকল শিক্ষকই মূল ভূখণ্ড থেকে মেঘনা পাড়ি দিয়ে চরে গিয়ে পাঠদান করে থাকেন। অন্যদিকে এখানে নেই কোন ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র। ফলে ঝড়-বাদলে এখানকার বাসিন্দারা মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে পড়েন। বিশুদ্ধ পানির অভাবে এখানকার শিশু-কিশোরদের মাঝে চর্মরোগ লক্ষ্যণীয়ভাবে বেড়ে গেছে। চিকিত্সার কোন ব্যবস্থা নেই এই চরে। এখানকার প্রবীণ বাসিন্দা ইব্রাহিম মাঝি, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এলাকার ইউপি সদস্য মহিউদ্দিন বাবুল এবং মসজিদের ঈমাম জালাল আহমেদ বলেন, শীতের মধ্যভাগেই পুকুরগুলো শুকিয়ে গেছে এবং অধিকাংশ নলকূপ অচল। ফলে পানি সমস্যা এখানে প্রকট আকার ধারণ করেছে। এলাকার চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম নকিব জানান, আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো বসবাসের অযোগ্য হয়েছে বহু আগে। নির্মাণের পর এগুলো আর মেরামত করা হয়নি। বাসিন্দারা মেরামত করার সামর্থ রাখে না। ফলে চালের উপর খড়-কুটা, পলিথিন দিয়ে কোন রকমে দিন গুজরান করছে তারা। ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অলিউর রহমান জানান, পুকুরের মাটি কেটে এর তলদেশ গভীর করা ও জরুরিভিত্তিতে ৮০টি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য তিনি সরকারের কাছে পত্র প্রেরণ করেছেন। গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
