নির্বাচিতদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরোধী ছিলেন গোলাম আযম

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১৫
জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত রেখেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল সোমবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে দুই সদস্যের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ ষষ্ঠ দিনে যুক্তি উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সুলতান মাহমুদ। গতকাল গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতা বিষয়ে চতুর্থ অভিযোগের উপর যুক্তি উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, পাকিস্তানের নির্বাচনে জয়ীদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে বিরোধিতা করেছিলেন গোলাম আযম। ১৯৭১ সালের জুন মাসে লাহোরে গোলাম আযম বলেন, ক্ষমতা হস্তান্তরে উপযুক্ত সময় আসেনি। আর যাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে তাদেরকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে উস্কানি বিষয়ে তৃতীয় অভিযোগের উপর যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন সুলতান মাহমুদ। গতকালও গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে ১৯৭১ সালে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক পূর্বদেশ, দৈনিক পাকিস্তানসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের কাটিং ও সরকারি ডকুমেন্ট থেকে যুক্তি উপস্থাপন করেন তিনি। যুক্তি উপস্থাপনে তিনি বলেন, একাত্তরের জুনে লাহোরে গোলাম আযম বলেন, জনগণ পাকিস্তানি সেনাকে সহায়তা করতে চায় কিন্তু দুষ্কৃতকারীদের জীবননাশের হুমকির কারণে পারছে না। সে সময় মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামী বাঙালীদের তিনি দুষ্কৃতকারী হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, তারা এখনো ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত রয়েছে। তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসীদের অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আহবান জানান। পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী বলতে গোলাম আযম শান্তি কমিটি, আল-বদর, আল-শামসেদর বুঝিয়েছেন বলে জানান সুলতান মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষের এই কৌঁসুলি বলেন, গোলাম আযমের এ ধরনের বক্তব্যে তত্কালীন পাকিস্তান সরকারের নীতি নির্ধারণে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে। লাহোরে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশ) পরিস্থিতি উল্লেখ করে করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য দেন গোলাম আযম। তার বক্তব্যে বোঝা যায়, পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ও তার অবস্থান একইরকম ছিল। কুষ্টিয়ায় এক জনসভায় গোলাম আযম আওয়ামী লীগ ও হিন্দু বাঙালীদের ষড়যন্ত্রকারী বলে দমনের আহবান জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তান হাসিলের মাধ্যমে মুসলিমদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ মুসলিম আশা-আকাঙ্ক্ষা চুরমার করে দিচ্ছে।