সিলেটের বিশ্বনাথে দীর্ঘ দশ বছরেও আওয়ামী লীগের সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন কারণে উপজেলার ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায়ের সম্মেলন না হওয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন না হওয়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ। কবে হবে সম্মেলন তাও এখনও বলা মুশকিল। শীঘ্রই উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন না হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে এর খেসারত দিতে হবে। দলের অনেক নেতা জানান, সরকার গঠনের পর থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের অনেক নেতা নিজের পকেট ভারি করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু দলে নতুন সদস্য সংগ্রহে তারা কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ বর্তমানে কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত। কয়েকজন নেতার ভাষ্য এমপি উপজেলায় এলে ফায়দা হাসিল করার জন্য নেতা-কর্মীদের কিছুটা উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু কোনো সভা-মিছিলের আহবান করার হলে হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া সবাই বাড়িতে বসে সময় পার করেন।
আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানান, ২০০৯ সালে নির্বাচনে কর্মীরা শেখ হাসিনাকে একজন এমপি উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু এর পর থেকে দলে সৃষ্টি হয়। দলের ত্যাগী নেতাদের সুকৌশলে সরকার ও দলের বাইরে রাখা হয়েছে। এখন সুবিধাভোগীরা শুধু মঞ্চে বসে দল নিয়ন্ত্রণ করছেন। কিছুদিন পূর্বে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সম্পন্নের পর খুব শ্রীঘ্রই উপজেলা সম্মেলন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সাংসদের পছন্দের দুই একজন নেতা উপজেলা কমিটিকে না জানিয়ে গোপনে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের পছন্দের লোক দিয়ে কমিটি গঠন করছেন। এতে আওয়ামী লীগের প্রকৃত কর্মীরা বাদ পড়ছে এবং অন্যান্য দলের সুযোগ সন্ধানীরা আত্মরক্ষার্থে দলে প্রবেশ করছে।
জানা যায়, ২০০৪ সালে সেপ্টেম্বর মাসে মজম্মিল আলীকে সভাপতি ও বাবুল আখতারকে সাধারণ সম্পাদক করে উপজেলা আওয়ামী লীগের ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির দুই-একজন প্রবাসেও রয়েছেন। আগামী মার্চ মাসের মধ্যে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের সম্মেলন শেষ হবে। আর ইউনিয়ন সম্মেলন শেষ হওয়ার সাথে সাথে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, সম্মেলন কিছুদিনের মধ্যেই হবে। তিনি বলেন, আমাদের দলে কোন গ্রুপিং নেই। ত্যাগী নেতা-কর্মীর মূল্যায়ন অবশ্যই করা হচ্ছে।
