বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার অস্কার নামে পরিচিত একাডেমী অ্যাওয়ার্ডের ৮৫তম আসরে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে নিল বেন অ্যাফ্লেক পরিচালিত আরগো। গত রবিবার সন্ধ্যায় লস এঞ্জেলেসের বিখ্যাত ডলবি থিয়েটার মঞ্চে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসাবে অস্কার জিতে নিলেন ড্যানিয়েল ডে-লুইস। ‘লিংকন’ চলচ্চিত্রে নায়ক হিসাবে তার অভিনয় নৈপুণ্যের জন্য তাকে এই পুরস্কার দেয়া হয়। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসাবে তিনবার অস্কার পেয়ে এক অনন্য রেকর্ড গড়লেন তিনি। শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কারটি পেয়েছেন ‘সিলভার লাইনিং প্লেবুক’ চলচ্চিত্রের নায়িকা জেনিফার লরেন্স। সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন ‘লাইফ অব পাই’ চলচ্চিত্রের পরিচালক অ্যাং লি। ‘লাইফ অব পাই’ সিনেমাটোগ্রাফি ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের জন্যও আরো দুটি পুরস্কার পেয়েছে।
সেরা অভিনেতা হিসাবে তিনবার অস্কার পাওয়া ড্যানিয়েল ডে-লুইস এবারের পুরস্কার হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঈশ্বর আমাকে একটু বেশিই ভালোবেসে ফেলেছেন। এর আগে তিনি ১৯৯০ সালে ‘মাইল লেফট ফুট’ এবং ২০০৮ সালে ‘দেয়ার উইল বি ব্লাড’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পান। এবারের অস্কার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান উপস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন সেথ ম্যাকফারলেন।
এবারের অস্কার ড্যানিয়েলের হ্যাটট্রিক ছাড়াও আরও একটি কারণে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পাবে, তা হলো অস্কারের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মার্কিন ফার্স্ট লেডি পুরস্কারের ঘোষণা দিলেন। এবারের ৮৫তম একাডেমী পুরস্কারের আসরে সেরা ছবির জন্য পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে চমক লাগিয়ে দেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা। ভিডিও লিংকের মাধ্যমে হোয়াইট হাউস থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে অনুষ্ঠিত অস্কার আসরে যোগ দেন তিনি। এ বছর অস্কারের সেরা ছবি বিভাগে বেন অ্যাফ্লেক পরিচালিত ‘আরগো’ ছবির নাম ঘোষণার পাশাপাশি চলচ্চিত্র শিল্পেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন মিশেল। মিশেল বলেন, এবারের অস্কার মনোনয়ন পাওয়া নয়টি ছবিই দারুণ। ছবিগুলো আমাদের হাসিয়েছে, কাঁদিয়েছে। এগুলো আমাদের অতীতে নিয়ে গেছে। আবার নিয়ে গেছে বিশ্বের নানা প্রান্তে।
মিশেল ওবামা আরও বলেন, ‘ছবিগুলো আমাদের শিখিয়েছে, চাইলেই যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। তরুণ প্রজন্মের জন্য এ ছবিগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রতিনিয়তই তারা শিল্পের সংস্পর্শে আসে, কল্পনাকে প্রসারিত করতে শেখে এবং শিল্পীর দেখানো স্বপ্নগুলোর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।’
এরপর একে একে বিভিন্ন ক্যাটাগরির পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন সেরা চলচ্চিত্র: আরগো, সেরা অভিনেতা: ডেনিয়েল ডে লুইস (লিংকন), সেরা অভিনেত্রী: জেনিফার লরেন্স (সিলভার লাইনিং পেন্টবুক), সেরা পার্শ্ব অভিনেতা: ক্রিস্টোফার ওয়াল্টজ (জ্যাংগো আনচেইন্ড), সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী: অ্যান হ্যাথওয়ে (লা মিজারেবল), সেরা পরিচালক: অ্যাং লি (লাইফ অব পাই), সেরা বিদেশি চলচ্চিত্র: আমুর (অস্ট্রিয়া), সেরা অ্যাডপটেড স্ক্রিনপ্লে: আরগো-ক্রিস টেরিও, সেরা অরিজিনাল স্ক্রিনপেন্ট : জ্যাঙ্গো আনচেইন্ড, কুয়েনটিন টারানটিনো সেরা অ্যানিমেটেড ফিচার: ব্রেভ, সেরা প্রোডাকশন ডিজাইনিং: রিক কারটের ও জিম এরিকসন (লিংকন), সেরা সিনেমাটোগ্রাফি: লাইফ অব পাই, সেরা সাউন্ড মিক্সিং: লা মিজারেবল, সেরা শব্দ সম্পাদনা: স্কাইফল, ‘জিরো ডার্ক থার্টি, সেরা অরিজিনাল স্কোর: মাইকেল ড্যানা (লাইফ অব পাই), সেরা অরিজিনাল গান: দ্য স্কাইফল (স্কাইফল), সেরা কস্টিউম ডিজাইন: ব্রিটন জ্যাকুলিন ডুরান (আন্না কারেনিনা), সেরা তথ্যচিত্র (ফিচার): স্ন্যাচিং ফর সুগার ম্যান, সেরা তথ্যচিত্র (শর্ট সাবজেক্ট): ইনোসেন্ট, সেরা লাইভ অ্যাকশন শর্ট ফিল্ম: কারফিউ, সেরা অ্যানিমেটেড শর্ট ফিল্ম: পেপারম্যান, সেরা মেকআপ ও হেয়ারস্টাইল: লা মিজারেবল, সেরা ফিল্ম এডিটিং: আরগো, সেরা ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস: লাইফ অব পাই।
