নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্রের লাশ পদ্মায় উদ্ধার

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২২
রাজশাহীতে নিখোঁজের তিন দিন পর পদ্মা নদীতে পাওয়া গেল মাদ্রাসা ছাত্র হাফেজ রাশেদুল ইসলামের (১৮) লাশ। গতকাল সোমবার সকালে পাজামা-পাঞ্জাবী পরিহিত লাশটি নগরীর কেদুর মোড়ের অদূরে নদী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মহানগরীর নিউমার্কেট এলাকার ইসলামিয়া মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর ছাত্র ও জিন্নানগর এলাকার আনোয়ারুল হকের ছেলে। গত শুক্রবার নগরীতে পুলিশের সঙ্গে ১২ ইসলামী দলের সংঘর্ষের সময় তিনি নিখোঁজ হন। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। এদিকে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রাশেদুল ইসলামের লাশ নিয়ে দুপুরে কেদুর মোড়ে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। স্থানীয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা তাদের সঙ্গে যোগ দেন। এসময় কয়েকজন পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষোভকারীরা তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পালিয়ে যান। পরে রাশেদুলের লাশ মাদ্রাসায় নিয়ে আসা হয়। এসময় তার স্বজন, শিক্ষক-সহপাঠীদের কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মাদ্রাসার বাইরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ রাশেদুল ইসলামের পিতা আনোয়ারুল হক অভিযোগ করেন শুক্রবার বাদ জুম্মা বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় রাশেদুল পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়। আত্মরক্ষার্থে সে পদ্মা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। ওই দিন বাদ জুম্মা সাহেববাজার বড় মসজিদ মার্কেট থেকে তার জন্য রাশেদুলের ওষুধ নেয়ার কথা ছিল বলে তিনি জানান। পরে পিতার আপত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতের পর রাশেদুলের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি জিয়াউর রহমান বলেন, রাশেদুল কিভাবে মারা গেছেন, তা পুলিশের জানা নেই। এ ঘটনায় তার পিতা একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। পরিবারের সম্মতিতে ম্যাজিস্ট্রেট ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তিনি জানান।