আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মোবারকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৩
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামিনে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানার আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মো. মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল সোমবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে দুই সদস্যের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সাহিদুর রহমান এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ আমলে নেয়ার বিষয়ে আগামী ১১ মার্চ আদেশ দেবে ট্রাইব্যুনাল। এদিকে মোবারক হোসেনের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঐদিন পর্যন্ত তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গতকাল ট্রাইব্যুনালে মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে কৌঁসুলি সাহিদুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, অপহরণসহ ৫ ধরনের অভিযোগে ৩৩ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। ৬ মাস ৭ দিন তদন্ত শেষে মোট চারটি ভলিয়মে ২৯৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, আখাউড়া থানাধীন টানমান্দাইল ও জাঙ্গাইল গ্রামে ৩৩ জনকে হত্যা, আনন্দময়ী কালীবাড়ী রাজাকার ক্যাম্পে আশুরঞ্জন দেবকে নির্যাতন, ছাতিয়ানা গ্রামের শহীদ আবদুল খালেককে হত্যা, শ্যামপুর গ্রামের ২ জনকে অপহরণ করে ১ জনকে হত্যা এবং খড়মপুর গ্রামের ১ জনকে আটক রেখে নির্যাতন। ২০০৯ সালের ৩ মে শহীদ আবদুল খালেকের মেয়ে খোদেজা বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। মোবারক হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করলে হাইকোর্ট প্রথমে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিলেও পরে নিম্ন আদালতে তাকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেন। ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর মোবারক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। তার পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলে স্থানীয় আদালত জানান, মোবারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তার জামিনের এখতিয়ার এখন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের। গত বছরের ১১ জুলাই ট্রাইব্যুনালে তার জামিন আবেদনের শুনানি হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ১৬ জুলাই তাকে জামিন দেয় ট্রাইব্যুনাল। এরপর কয়েক দফা তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়।