বইমেলায় আগুন, ২৭ স্টল পুড়ে ছাই

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৫
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রবিবার দিবাগত মধ্যরাতে ভস্মীভূত হয়েছে অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৭টি স্টল। বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে স্থাপিত বইয়ের অস্থায়ী স্টলগুলোতে রাত একটার দিকে আগুন লাগে। নতুন ভবনের কাছে অবস্থিত স্টলগুলোতে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই পুড়ে যায় ২৬৪ থেকে ৩০৪ নম্বর পর্যন্ত ২৭টি স্টল। এসব স্টলে প্রায় ২ কোটি টাকার বই পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রকাশকদের মাথায় হাত পড়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মনির হোসেন জানান, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফার আগুন (২৬৪ থেকে ৩০৪ নম্বর স্টলে) নিয়ন্ত্রণে আসলেও রাত দুইটার দিকে আবারও আগুন লাগে মেলার ৩৬০ ও ৩৬১ নম্বর স্টলে অবস্থিত জিনিয়াস পাবলিকেসন্সে। অবশ্য সঙ্গে সঙ্গেই তা নিভিয়ে ফেলার কারণে স্টলের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। পরে রাত আড়াইটার দিকে আবারও আগুন লাগে ৩৩০ ও ৩৩২ নম্বর স্টলে অবস্থিত প্রকাশনী সংস্থা বিজয় প্রকাশে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত এই আগুনও নিভিয়ে ফেলে। বিজয় প্রকাশ স্টলে অগ্নিকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী প্রকাশক সাইফুল্লাহ খান জানান, হঠাত্ই তিনি স্টলটির ভেতর থেকে পোড়া গন্ধ পান এবং সেখান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিভিয়ে ফেলে। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মনির হোসেন জানান, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি জানান, মেলায় রাত নয়টার পর বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধের কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে রাতেও মেলা প্রাঙ্গণে একটি বৈদ্যুতিক লাইনের সংযোগ ছিলো। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। তবে নাশকতার আশঙ্কাকেও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।’ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ২৭টি স্টলের মধ্যে ২টি সরকারি স্টল রয়েছে। সরকারি স্টল ২টি হচ্ছে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র ও ট্যুরিজম স্টল। প্রকাশকদের স্টলের মধ্যে রয়েছে- রূপ প্রকাশনী, সিদ্দিকীয়া, শিরীন, পারিজাত, বর্ণবিচিত্রা, মূর্ধন্য, মুক্তদেশ, গদ্যপদ্য, পলল, পলাশ, জয়তী, কিশোর ভুবন, চারুলিপি, কাশবন, তৃপ্তি প্রকাশ কুঠির, দি রয়েল পাবলিকেশনস, ঘাস ফুল নদী, নিমফিয়া, ঐক্য, গাজী প্রকাশনী, জ্যোস্না, শৈলী, গতি, পাঠক সমাবেশ, বিউটি বুক হাউস ও হাসি প্রকাশনী। সংস্কৃতি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ গতকাল দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এছাড়া সংস্কৃতি সচিব সুরাইয়া বেগম, এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান ও প্রকাশক সমিতির নেতৃবৃন্দ সঙ্গে ছিলেন। সংস্কৃতি মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, প্রকৃত সত্য শিগগিরই জানা যাবে। তবে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বলেই তারা ধারণা করছেন। বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান জানান, ইতিমধ্যে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলো হচ্ছে- কারিগরি কমিটি, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ কমিটি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা কমিটি। ৫ সদস্য বিশিষ্ট ‘ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ কমিটি’ কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবেন। এ কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি আলমগীর সিকদার লোটন। ৬ সদস্য বিশিষ্ট ‘কারিগরি কমিটি’ আগুনের উত্স, উদ্দেশ্য ও আগুন লাগার সময় নিরাপত্তা কর্মীদের অবস্থান কোথায় ছিল— এসব তথ্যসহ আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবেন। ৫ সদস্য বিশিষ্ট ‘সার্বিক ব্যবস্থাপনা কমিটি’ ক্ষতিগ্রস্তদের কিভাবে ক্ষতি পুষিয়ে দেয়া যায় সে বিষয়ে কাজ করবেন। এই কমিটিও তাদের প্রতিবেদন জমা দেবেন ২৭ ফেব্রুয়ারি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে মনে হয় না। তিনি বলেন, জিনিয়াস পাবলিকেশনস ও বিজয় প্রকাশে আগুন লাগার চিহ্ন পাওয়া গেছে। এই দুইটি স্টলের উপরের তিরপল থেকে আগুনের উত্পত্তি লক্ষ্য করা গেছে। এদিকে সংস্কৃতি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ একাডেমীর কর্মকর্তা ও প্রকাশক এবং বিক্রেতা সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা হবে।’