আইলা বিধ্বস্ত কয়রা উপজেলায় এখনো খাবার পানির তীব্র সংকট রয়েছে। বিশেষ করে কয়রা সদর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর কয়রা গ্রামের ৫০ হাজার মানুষকে খাবার পানির জন্য রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে। এসব এলাকার পুকুরগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় ১৫ কিলোমিটার দূর থেকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে খাবার পানি ।
২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলা ও জলোচ্ছ্বাসে এই এলাকার অধিকাংশ পুকুর লবণ পানির কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। কোনো গভীর নলকূপ কাজে না আসায় এ অঞ্চলের মানুষকে প্রায় ১৪-১৫ কিলোমিটার দূরের সুন্দরবনের বজবজিয়া নামক স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করে পান করতে হচ্ছে। যাদের নৌকা নেই তারা ৩০ লিটার পানি ২০ টাকায় কিনছেন। অনেক দূর হতে পানি সংগ্রহ করাসহ দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে দিনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করছেন গ্রামবাসী।
এলাকাবাসী জানান, সুন্দরবনের কোল ঘেঁষা উপকূলীয় উপজেলা কয়রার কয়রা সদর ইউনিয়নের কয়রা গ্রামের অতিদরিদ্র মানুষ বছরের প্রায় সব সময়ই সুপেয় পানির অভাবে নিদারুণ কষ্ট ভোগ করে থাকে। এখানকার হতদরিদ্র মানুষের কাছে এক ফোঁটা বিশুদ্ধ পানি যেন অমৃতসম।
এসব এলাকার নদীর পানি ও পুকুরের পানিতে লবণ। এমন কি ভূ-গর্ভের পানিতেও লবণ। একমাত্র ভরসা বৃষ্টির পানি। বৃষ্টির মৌসুমে বৃষ্টির পানি পান করলেও বছরের ৯ মাসই অসম্ভব পানির কষ্টে দিনকাটে তাদের। সুপেয় পানির অভাবে এখানকার মানুষের পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিও হয় না। পানির অভাবে স্কুলের উপস্থিতিও কম। নারীদেরও নানা রকমের অসুখ-বিসুখ লেগেই আছে।
হতদরিদ্র মানুষের কথা বিবেচনা করে ৪ নম্বর কয়রা গ্রামে বেসরকারি সংস্থা রূপান্তর ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ওয়াটার এইডের সহযোগিতায় একটি ‘রিভার ওসমোসিস মিনি পাইপ ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেম/ডি-স্যালাইনেশন প্লান্ট’ স্থাপন করেছে। ভূ-গর্ভের লবণ পানি উত্তোলন করে ডি-স্যালাইনেশন প্লান্টের মাধ্যমে তা লবণমুক্ত করে পাইপের মাধ্যমে দরিদ্র এলাকাবাসীর মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। পাইপ লাইনের মাধ্যমে সংস্থাটি মাত্র ২১০টি পরিবার, ১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৩শ ছাত্র-ছাত্রী) ও ১টি মাদ্রাসায় নিরাপদ পানি সরবরাহ করছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
