বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, সরকারের মন্ত্রী, দলের নেতা ও এমপিরা জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সমাবেশে বলছেন তারা জামায়াতে ইসলামের বিরোধী তবে ইসলাম বিরোধী নয়। তাদের এ বক্তব্য মোটেই ঠিক নয়। আসলে তারা ইসলামের বিরুদ্ধেই খড়গহস্ত। আওয়ামী লীগ এদেশ থেকে ইসলাম নির্মূলের জন্য যা যা করা দরকার তার সবকিছুই করছে।
জামায়াতে ইসলামীকে কোন মিছিল, সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও মহানগরী কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন জেলা শাখার কার্যালয় তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে আজ পর্যন্ত সিলেট, গাইবান্ধা, ঝিনাইদহ ও মানিকগঞ্জে ১৩ জন ধর্মপ্রাণ মানুষকে সরকার গুলি করে হত্যা করেছে। এরা সকলেই ধর্মপ্রাণ। এদের আন্দোলন নাস্তিক, মুরতাদদের বিরুদ্ধে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের প্রতিবাদে দেশের পীর-মাশায়েখ, আলেম-উলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ জানাতে যখন মাঠে নেমেছে তখন সরকার এটা জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের তাণ্ডব বলে আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দিতে চাচ্ছে। সরকার দেশের আলেম ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও ইসলামী দলসমূহের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সারা দেশে লক্ষাধিক লোকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করবে বলে তারা আস্ফাালন করছে। জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী একটি দল। প্রতিটি মহানগরী, জেলা, উপজেলায়, থানায়, মহল্লায়, জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ লক্ষ সমর্থক রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অধিকারের উপর কোন আঘাত আসলে এদেশের জনগণ তা কঠোরভাবে মোকাবেলা করবে।
এদিকে অন্য এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় পতাকায় অগ্নিসংযোগ বা ছিড়ে ফেলা এবং শহীদ মিনার ভাঙ্গার সাথে জামায়াত ও ছাত্রশিবির জড়িত’ মর্মে অপপ্রচার করা হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে। দেশের কোথাও জাতীয় পতাকায় অগ্নিসংযোগ বা শহীদ মিনার ভাঙ্গার সাথে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির জড়িত নয়।
