কিশোরগঞ্জে ইসলামী ১২ দলের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৮
গতকাল সোমবার বিকালে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে ইসলামী সমমনা ১২ দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষে ৩ জন গুলিবিদ্ধ এবং পুলিশসহ অন্তত: অর্ধশত আহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ সদর উপজেলার বৌলাই গ্রামের কামরুল বারীর পুত্র হেলালকে (৪০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নেয়ার পর ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। পুলিশ অন্ততঃ ৫০ রাউন্ডঃ রাবার বুলেট ও ৬০ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। শহরের শহীদী মসজিদে আছরের নামাজ শেষে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আছরের নামাজের পর থেকে মাগরিবের আজান পর্যন্ত শহরের স্টেশন রোড এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। এসময় স্টেশন রোড ও গৌরাঙ্গবাজার এলাকার সকল দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। অন্ততঃ ১৫ জনকে আটক করে পুলিশ। সারাদেশে শুক্রবার ইসলামী দলগুলোর বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি থাকলেও কিশোরগঞ্জে ইমাম-ওলামা পরিষদের সভাপতি শহীদী মসজিদের খতিব মাওলানা আজহার আলী আনোয়ার শাহ শুক্রবারের পরিবর্তে গতকাল সোমবার বিকাল ৩টায় এ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে তিনি পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বাতিলের ঘোষণা দেন। কিন্তু আছরের নামাজ আদায়ের পর পরই শ্লোগান সহকারে ইসলামী সমমনা ১২ দলের নেতা-কর্মীরা শহীদী মসজিদ থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে নেতা-কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতা ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবার উপক্রম হলে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। ইসলামী দলগুলোর নেতা-কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিকাল ৫টার দিকে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আসাদ উল্লাহর নেতৃত্বে শহরে মুক্তিযোদ্ধা-জনতার একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। রাত সাড়ে আটটায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে খন্ড খন্ড মিছিল এবং মোড়ে মোড়ে সমাবেশ হচ্ছিল। শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ সুপার মীর রেজাউল আলম পুলিশের রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস শেল নিক্ষেপ এবং গ্রেফতারের সত্যতা স্বীকার করে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।