সিংগাইরে সংঘর্ষ ও খুনের ঘটনায় ৬ মামলায় ৪ হাজার আসামি

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৯
ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের ডাকা হরতাল চলাকালে গত রবিবার সিংগাইরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে হরতাল সমর্থক চারজন নিহত, থানার ওসিসহ অর্ধশত আহত এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় সিংগাইর থানায় মোট ৬টি মামলা হয়েছে। এদিকে চারজন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ওলামা মাশায়েখ পরিষদের ডাকে গতকাল মানিকগঞ্জে সকাল-সন্ধ্যা ঢিলেঢালা হরতাল পালিত হয়। নিহত চারজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শোকের মাতম চলছে নিহতদের পরিবারে। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিতে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় সিংগাইর থানার এসআই আব্দুস সালাম বাদী হয়ে ৩০২ ধারায় গত রবিবার রাতে মামলা করেন। পুলিশকে মারধর, অস্ত্র ছিনতাই করে হত্যা চেষ্টা এবং মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ এনে একই সময়ে এসআই মনিরুজ্জামান আরেকটি মামলা করেন। উভয় মামলায় ৫০-৬০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত প্রায় চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। মানিকগঞ্জের এএসপি (সার্কেল) কামরুল ইসলাম ইত্তেফাককে এ কথা জানিয়েছেন। এর বাইরে হরতাল সমর্থকদের হাতে থানা আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি আব্দুল মাজেদ খান গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় তার ছেলে ফয়েজ খান, ছাত্রলীগ নেতা মিরুকে গুলি করার অভিযোগে তার পিতা আজিমপুরের আব্দুল কাদের, কাশিম নগর বাজারে ১০-১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী আজাহার এবং ছাত্রলীগ নেতা আবু সাইদকে গুলিবিদ্ধ করার অভিযোগে তার নানা ডা. রিয়াজুল ইসলাম মামলা করেছেন। গত রবিবার রাতে এসব মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশের করা মামলার আসামিদেরই এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে। দেখা গেছে, সব আসামিই স্থানীয় গোবিন্ধল গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে গোবিন্ধল গ্রাম। এসব মামলায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করে গতকাল মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। তবে গতকাল রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন মামলা দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে। গোবিন্ধল গ্রামের হতাহতদের স্বজনরা জানান, তারা ভুক্তভোগী হয়েও আইনের আশ্রয় নিতে পারছেন না। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান মাহবুবুর রহমান মিঠু বলেন, ‘আমার ইউনিয়ন ও পৌরসভার বাসিন্দারা নিহত ও আহত হয়েও মামলা করার সাহস পাচ্ছে না মামলা ও হামলার ভয়ে। আমি নিজেও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’ রবিবার রাতেই নিহত মাদ্রাসা ছাত্র শাহ আলম, পৌর স্বেচ্ছাবেক দল নেতা নাজিমুদ্দিন ও আলমগীরের লাশ দাফন করা হয়েছে। গতকাল দাফন করা হয় খেলাফত মজলিশের নেতা মাওলানা নাসিরের লাশ। এদিকে চারজনকে হত্যা, পুলিশসহ অর্ধশত গুলিবিদ্ধ এবং জখম, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট, যানবাহন ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, ৪-৫ হাজার লোকের হরতাল সমর্থিতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে সনাক্ত করে প্রকৃত অপরাধীকে বের করা হবে। এর বাইরে কাউকে ধরা হবে না এবং আসামি করা যাবে না। নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি করা যাবে না। এদিকে হরতালের নামে নৈরাজ্য, যানবাহনের ক্ষতি সাধন ও আওয়ামী লীগ নেতা মাজেদ খান, ছাত্রলীগ নেতা মিরু ও সাইদের উপর হামলার প্রতিবাদে এবং যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গতকাল সিংগাইর বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে আওয়ামী লীগ। এতে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতা দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুল, মমতাজ বেগম এমপি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নান, জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি মীর আনোয়ার হোসেন রতন প্রমুখ।