শিশু নির্যাতনের দায়ে শাস্তি বৃদ্ধি এবং প্রতিটি জেলায় শিশু আদালত স্থাপনের বিধান রেখে শিশু আইন সংশোধনের প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ‘শিশু আইন ২০১৩’র খসড়ায় ১৮ বছরের কম বয়সীদের শিশু হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৭৪ সালের আগের আইনে যা স্পষ্ট ছিল না। অবশ্য ২০১০ সালের জাতীয় শিশু নীতিতে ১৮ বছরের কম বয়সী সবাইকে শিশু হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়। তিনি বলেন, বাবা-মায়ের শাসন আমাদের সমাজে গ্রহণযোগ্য, তবে তা নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে গেলে তারা আইনের আওতায় আসবেন। শিশুর অধিকার খর্ব করলে বা শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা দেখালে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে আইনের খসড়ায়। ১৯৭৪ সালের আগের আইনে এ ধরনের অপরাধে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা এক হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান ছিল।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ আইনের আওতায় জাতীয় পর্যায়ে জেলা ও উপজেলায় শিশু কল্যাণ বোর্ড গঠন করা হবে। প্রতিটি থানায় একজন পুলিশ কর্মকর্তার অধীনে একটি করে শিশু বিষয়ক ডেস্ক গঠন করা হবে। প্রতি জেলায় হবে একটি করে শিশু আদালত। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির অধীনে কোনো শিশু হেফাজেতে থাকলে তাকে আঘাত, বর্জন, পরিত্যাগ, অবহেলা, অরক্ষিত অবস্থায় পরিত্যাগ বা অশালীন আচরণ নিষ্ঠুরতা বলে গণ্য হবে। শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য বা উত্সাহিত করলে এবং ‘অসত্পথে পরিচালিত করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা যাবে। শিশুর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কেউ নেশাগ্রস্ত হলে তাও অপরাধের পর্যায়ে পড়বে এবং এক্ষেত্রে এক বছর কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।
আইনের খসড়ায় শিশুকে দিয়ে মাদক সরবরাহ বা নিষিদ্ধ বস্তু বহনে বাধ্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। শিশুকে বাজি ধরতে উত্সাহিত করা হলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে। এছাড়া শিশুর পরিচর্যা এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা দেয়া হবে সে বিষয়েও আইনের খসড়ায় বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। রাজনৈতিক সভা বা সমাবেশে শিশুদের ব্যবহার করলে এ আইন অনুযায়ী শাস্তি হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, শিশুদের ব্যবহার যদি নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে পড়ে তাহলে তা অপরাধ হবে। জোর করে শ্রম নেয়া হলে তা শোষণের পর্যায়ে পড়বে। যা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এছাড়া মন্ত্রিসভা চলচ্চিত্র শিল্প ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মানোন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার বিধান সম্বলিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট’ আইন-২০১৩’র খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেন, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণে প্রশিক্ষিত, দক্ষ, যোগ্য নির্মাতা ও কলাকুশলী সৃষ্টিতে এ আইনের মাধ্যমে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হবে। এ ইনস্টিটিউটে ১৮ সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ থাকবে জানিয়ে মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেন, এর প্রধান নির্বাহীকে সরকার নিয়োগ দেবে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তি এ পর্ষদে থাকবেন। এ প্রতিষ্ঠানের জন্য বিধিমালা প্রণয়ন করবে সরকার, আর সার্বিক প্রশাসনিক, আর্থিক, কৌশলগত ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, এ ইনস্টিটিউট প্রশিক্ষণের পর ডিপ্লোমা ও ডিগ্রি দিতে পারবে। এজন্য কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের সংযুক্ত করা হবে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে বেলারুশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টিও অনুমোদন করা হয়েছে।
