অষ্টম, নবম, দশম শ্রেণির উপযোগী আজকের ভাব-সমপ্রসারণ করেছেন
আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
হাসি-কান্ন্া, আনন্দ-বেদনা কিংবা সুখ-দুঃখে ভরা মানুষের জীবন। কিন্তু এসবের কোনটাই কখনও স্থায়ী হয় না। তাই কান্না বা দুঃখের পর সুখের দিন আসে। সুখময় দিনগুলো যখন মানুষ শুধু নিজে ভোগ করতে পারে কিংবা সবাইকে নিয়ে উপভোগ করে ঠিক তেমনি দুঃখের দিনেও মানুষ অন্যকে কাছে চায় বা তার সাহায্য কামনা করে।
আমাদের এ বিচিত্র জীবনে মানুষ অন্যের সঙ্গে আনন্দের অংশীদার হতে চায় কিন্তু দুঃখের বা কষ্টের সময় তারা ঐ মানুষের সঙ্গ ত্যাগ করে। তাই এই পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই স্বার্থপর ও সুযোগ সন্ধানী। স্বার্থ সিদ্ধির আশায় বন্ধুর মুখোশ এঁটে সুসময়ের সঙ্গী হয়। কিন্তু দুঃসময় আসলেই এই বন্ধুই আবার দূরে চলে যায়। প্রকৃতিতে যখন ফুলের মেলা বসে, গাছে গাছে যখন সবুজ পাতার ছড়াছড়ি তখনই কোকিল আসে। শীতের মাঝে এই কোকিলকে আর পাওয়া যায় না। এদেরকে বলে বসন্তের কোকিল। ঠিক এমন সুসময়ের বন্ধু যারা তারাও বসন্তের কোকিলের মতোই সুযোগ সন্ধানী। স্বার্থপর লোকেরা তাই আনন্দময় দিনের ভাগ নিতে আসে কিন্তু দুঃখের দিনে বিদায় নেয়। এ শ্রেণীর বন্ধুরা প্রকৃত বন্ধু নয়। কেননা প্রকৃত বন্ধুরা কখনো বিপদকালে সুসময়ে যার সাথে ছিলো তাকে ত্যাগ করে না। বরং বিপদেই বন্ধুর সাহায্যার্থে পাশে এসে দাঁড়ায়। সত্যিকার বন্ধুর সুসময় বলে কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। সে সব সময়ই বন্ধুর পাশে বন্ধুত্বের মহিমায় চির অম্লান। ভ্রমরের মতো ফুলের মধু শেষ হলেই এর কাজ শেষ হয়ে যায় না। কৃত্রিম বন্ধুত্বের বন্ধনে নিজেকে শুধু স্বার্থ উদ্ধারের আশায় জড়িয়ে রাখে না। বন্ধুর বিপদে নিজের বিপদ মনে করেই তার পাশে থাকে সবসময় এবং সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। এরাই প্রকৃত বন্ধু অসময়ে বা অভাবের সময় বন্ধুর কাছে থাকে। সুসময়ে বা প্রাচুর্যের সময় যারা ভীড় জমায় তারা কেউ প্রকৃত বন্ধু নয়।
একজন ভাল বন্ধু মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রত্যেক বন্ধুর উচিত বিপদের সময় বন্ধুর পাশে থেকে তাকে সাহায্য করা। এটাই হল সত্যিকার বন্ধুর যথার্থ পরিচয়।
