রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

দশ দিনে দেশ দেখার চেষ্টা

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:৪৭
পাখির মতো আকাশে উড়তে কার না মন চায়। কিন্তু তা হয়ে ওঠে না কারোরই। কেউবা কল্পনার জগতে হারিয়ে যায় আকাশে ডানা মেলে উড়তে উড়তে। ডানা মেলে উড়তে না পারলেও টানা দশদিন আনন্দের মাঝে দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চষে বেড়িয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রপ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। সঙ্গে দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ষের বেশ কিছু শিক্ষার্থীও ছিলেন। সালেহ, রনি, প্রমী ও মিথুনসহ অনেকে বিভাগের সভাপতি মো. নূরল আলমকে সঙ্গে নিয়ে ৩জন শিক্ষক, ৪ জন কর্মচারী ও ৪৫জন শিক্ষার্থী মিলে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে বেড়ান। ভ্রমণ থেকে অনেক কিছুই শেখা যায় এই আশাও ছিল তাদের মাঝে। গত ২০ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় কাজলা গেট থেকে তাদের যাত্রা শুরু হয়। প্রথম যাওয়া হয় খুলনার দর্শনীয় স্থান ও যশোরে বিখ্যাত খামার বাড়ী দেখতে। খুলনায় হোটেল অরণ্যে কাটে তাদের প্রথম রাত। পরের দিন মংলা বন্দর, বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ ও সুন্দরবনে বন-জঙ্গল দেখে আবারও ফিরে যান হোটেল অরণ্যে। পরের দিন কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হয় তাদের। এসময় কুমিল্লার বার্ড ও ময়নামতি পরিদর্শন করে এই শিক্ষা সফর দল। ওই দিন চট্টগ্রামের যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে থাকতে হয় তাদের। পরের দিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু ও কাপ্তাই লেকের অচেনা সৌন্দর্য দেখে সবাই মুগ্ধ হয়ে যায়। ওই দিন দুপুরে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হয় তাদের। পরের দিন বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়, স্বর্ণমন্দির, নীলগিরি ও নীলাচলে যান তারা। তাদের এই শিক্ষা সফরের সব চেয়ে আনন্দের স্থান ছিল নীলগিরি। মাটি থেকে ২ হাজার ৪০০ মিটার এর উচ্চতা। একে একে প্রায় সবাই উঠে যায় সেখানে। প্রাণের স্পন্দন নিয়ে আবারও নামতে হয় তাদের। পরের দিন ভোরে সতর্ক অবস্থানে টেকনাফের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তারা। সকাল ৮টায় নাস্তা সেরে টেকনাফের সেন্টমার্টিনে এলসিটি কুটুবিয়া জাহাজে করে সেন্টমার্টিন ইউনিয়নে অবতরণ। পরে সেখানে সমুদ্র সৈকতে দুপুরে গোসল সারে সবাই। শিক্ষকদের নিয়ে এক সাথে গোসল করতে ফাহিম ও সাহাবের মতো সবাই আনন্দ অনুভব করে। পরে সেন্টমার্টিনের সমুদ্রঘেঁষা হোটেল রোজ মেরীতে গিয়ে ক্লান্ত শরীর বিলিয়ে দেয় তারা। সেখানকার সব দর্শনীয় স্থান দেখার পরে সেখান থেকে তাদের ফিরতি যাত্রা করতে হয়। পরে ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি কক্সবাজারের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান দেখে ঢাকায় আসার পথে চট্টগ্রামের যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র,পতেঙ্গা সৈকত, বন গবেষণা কেন্দ্র ও হযরত বায়েজিদ বোস্তামি (রঃ)-এর মাজার পরিভ্রমণ। ২৯ জানুয়ারি ঢাকার শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গণ বিশ্ববিদ্যালয় ও সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রদর্শন শেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আপন ঠিকানায় চলে আনে স্বপ্ন ঘেরা উদ্যোমী শিক্ষার্থীরা।