গুরুদাসপুর আওয়ামী লীগে কমিটি নিয়ে কোন্দল

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৩৭
নাটোরের গুরুদাসপুরে আওয়ামী লীগের কোন্দল নিরসন না করেই চলছে কমিটি গঠনের কার্যক্রম। ফলে দলের পরীক্ষিত-ত্যাগী ও সক্রিয় নেতা-কর্মিরা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারছেন না। এতে দলটির সাংগঠনিক ভিত দুর্বল হচ্ছে। পাশাপাশি দলের ভেতর গণতন্ত্রের চর্চা বিকশিত হচ্ছে না বলে দলের এক পক্ষের অভিযোগ। দলের নেতা-কর্মিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,- ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল কুদ্দুসের সাথে দলটির সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ আলী, সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান ও উপজেলা চেয়ারম্যান সরকার এমদাদুল হকের প্রকাশ্য দলীয় কোন্দল শুরু হয়। এ নিয়ে এলাকায় মারামারি ও পরস্পরের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা-মোকদ্দমাও হয়। গত ৪ বছর ধরে চলছে ওই কোন্দল। এদিকে সাংসদ আব্দুল কুদ্দুসের অনুসারীরা গত ৪ ফেব্রুয়ারি সাংসদের অফিস কাম বাসভবনে এক বর্ধিত সভার আয়োজন করে। জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম মোল্লা ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন। সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বক্তৃতা করেন: উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল আজিজ মাস্টার, খুবজীপুর ও নাজিরপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মহসিন আলী, আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস, উপজেলা কমিটির সদস্য আছের উদ্দিন। বর্ধিত সভায় সাংসদ আবদুল কুদ্দুস বলেন, ৪ বছর ধরে যোগসাজশ করে একটি লক্ষ্য নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত ও মাদকাসক্ত, উচ্ছৃংখলদের দলের ভেতর অনুপ্রবেশ ঘটানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ কারণে অনেকবার মারামারি ও মামলা-মোকদ্দমা হয়েছে। জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে এসব কাজে মদদ দিচ্ছেন। অথচ দলটির মূল কমিটিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির ৬৭ সদস্যের মধ্যে ৫জন মারা গেছেন। ৪৩ জন সদস্য তার সাথে রয়েছেন। তারা বর্ধিত সভায় উপস্থিত ছিলেন।সংসদ সদস্য আরো অভিযোগ করেন, ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ওই চক্র দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান গ্রহণ করলে দলীয় প্রার্থীর পরাজয় ঘটে। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তাদের বিতর্কিত ভূমিকা ছিল। বর্তমানেও তারা নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। এবারও উপজেলা আ.লীগকে আড়াল করে পছন্দের লোকদের নিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন উপজেলা ও পৌর কমিটি গঠনের অপচেষ্টা করছে। এদিকে নির্বাচিত কমিটিকে না জানিয়ে গঠনতন্ত্র পরিপন্থিভাবে কমিটি গঠন এবং বিতর্কিত লোকদের রেখে কমিটি গঠন করার অভিযোগে উপজেলার খুবজীপুর ও নাজিরপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মহসিন আলী ও আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস গুরুদাসপুর সহকারী জজ আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় গুরুদাসপুর উপজেলা আ.লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহনেওয়াজ আলী (পৌর মেয়র) ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরকার এমদাদুল হক (উপজেলা চেয়ারম্যান)কে অভিযুক্ত করা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ আলী বলেন, গঠনতন্ত্র অনুসরণ করেই তৃণমূল পর্যায়ে ব্যালট পদ্ধতিতে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এখন উপজেলা ও পৌর কমিটির গঠন প্রক্রিয়া চলছে। উপজেলা আ.লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্য আবদুল কুদ্দুসসহ তার অনুসারীরা নেতা-কর্মিদের কাছ থেকে এলাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এ কারণে তৃণমূল পর্যায়ে কোন কমিটিতে থাকতে না পেরে তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়েরসহ কমিটি গঠনের বিষয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগ আনছেন। নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান খান মুঠোফোনে জানান, বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও সাংসদ কুদ্দুসের নেতৃত্বেই নির্বাচিত হয়েছিলেন। এখন উপজেলা কমিটিকে বাদ দিয়ে সাংসদ আবদুল কুদ্দুস নিজে দায়িত্ব নিয়ে কমিটি গঠন করতে চান। কিন্তু সেটা গঠনতন্ত্র পরিপন্থি হওয়ায় উপজেলা কমিটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব পালন করছেন। এ কারণে সাংসদ ও তার অনুসারীরা ক্ষুব্ধ। এক্ষেত্রে জেলা কমিটি কোন হস্তক্ষেপ করছেন না।