মহাজোটে জাপা পেল ৪৫ আসন, দলীয় চিঠি ২০০টিতে

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৩৯

আওয়ামী লীগ মহাজোটের শরিক হিসেবে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) ৪৫টি আসনে ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে। জাপা মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়ে বলেছেন, আরও কিছু আসনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। কিছু আসনে  জাপা ও আওয়ামী লীগ দুই দলেরই প্রার্থীর জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সবমিলিয়ে প্রায় দুইশ আসনে জাপা দলীয় মনোনয়ন প্রদানের চিঠি বিতরণ শুরু করেছে।

গতকাল বিকালে রাজধানীর বনানীতে জাপা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, জাপা আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোটগত নির্বাচন করবে, এটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। মহাজোটের রূপরেখা প্রণয়নের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাপার কোনো মতপার্থক্য হয়নি। আমরা দুই পক্ষই নির্ভুলভাবে পথ চলে সামনে এগিয়ে চলছি। ইতোমধ্যে আমাদের মধ্যে অনেক বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যেই যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মহাজোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও জোটগত প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

জাপাকে আওয়ামী লীগ কতটি আসনে ছাড় দিচ্ছে, সাংবাদিকরা এই প্রশ্ন করলে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘এখন আমরা (জাপা) দলীয়ভাবে প্রায় দুইশ আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নের চিঠি দেব। রবিবার রাত থেকে এই চিঠি দেওয়া শুরু হয়েছে। বাকিরা আজকালের মধ্যে চিঠি নিয়ে যাবেন। মনোনয়ন প্রদানের চিঠির সঙ্গে প্রার্থীদের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারপত্রেও স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হচ্ছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর প্রত্যাহারের আগে সেগুলো মহাজোটগতভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর যারা মহাজোটগত প্রার্থী হবেন, তাদের আসনে আওয়ামী লীগ বা জাপার সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন।’ সংবাদ সম্মেলনে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, ফখরুল ইমাম, সাহিদুর রহমান টেপা, নাসরিন জাহান রত্না, এসএম ফয়সল চিশতি, মাহমুদুল হাসান, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, সোলায়মান আলম শেঠ, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, যুগ্ম-মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগ জাপাকে কতটি আসনে ছাড় দিতে রাজি হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে সেই সংখ্যাটি উল্লেখ না করলেও কিছুক্ষণ পরেই কয়েকটি টিভি চ্যানেলসহ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, এখন পর্যন্ত ৪৫টি আসনে ছাড় দিতে রাজি হয়েছে আওয়ামী লীগ।

মহাজোট থেকে যারা জাপার মনোনয়ন পেলেন

আওয়ামী লীগ থেকে জাপা কোন ৪৫টি আসনে ছাড় পেয়েছে সেই তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে জাপার সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন, এইচএম এরশাদ (রংপুর-৩ ও ঢাকা-১৭), জিএম কাদের (লালমনিরহাট-৩), কাজী ফিরোজ রশীদ (ঢাকা-৬), সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা (ঢাকা-৪), সেলিম ওসমান (নারায়ণগঞ্জ-৫), লিয়াকত হোসেন খোকা (নারায়ণগঞ্জ-৩), মসিউর রহমান রাঙা (রংপুর-১), এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান (কুড়িগ্রাম-১), আক্কাস আলী (কুড়িগ্রাম-৩), ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী (গাইবান্ধা-১), নূরুল ইসলাম ওমর (বগুড়া-৬), আলতাফ আলী (বগুড়া-৭), এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার (পটুয়াখালী-১), নাসরিন জাহান রত্না (বরিশাল-৬), রওশন এরশাদ (ময়মনসিংহ-৪), সালাউদ্দীন আহম্মেদ মুক্তি (ময়মনসিংহ-৫), ফখরুল ইমাম (ময়মনসিংহ-৮), মুজিবুল হক চুন্নু (কিশোরগঞ্জ-৩), ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী (সিলেট-২), সেলিম উদ্দিন (সিলেট-৫), আতিকুর রহমান আতিক (হবিগঞ্জ-১), নূরুল ইসলাম মিলন (কুমিল্লা-৮), ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ (চট্টগ্রাম-৫), জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু (নীলফামারী-৪), পীর ফজলুর রহমান মিজবাহ (সুনামগঞ্জ-৪), ডা. রুস্তম আলী ফরাজী (পিরোজপুর-৩), লে. জে (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (ফেনী-৩), সুনীল শুভরায় (খুলনা-১), মেজর (অব.) খালেদ আখতার (লালমনিরহাট-১) ও অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূইয়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২)।