বড় হচ্ছে অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেবর

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:০০
সময়ের সাথে সাথে বাড়ছে অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রিয়তা। শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন এক যুগের সূচনা করেছে এই অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণাটি। অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সারা বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকেই যে কেউ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের যে সুযোগ পেয়েছে, তা এক কথায় শিক্ষাক্ষেত্রে এক বিপ্লব। অনলাইনে উচ্চশিক্ষার জন্য যে কয়েকটি অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম প্রধান একটির নাম কোরসিয়া (Coursera)। https://www.coursera.org ঠিকানার এই অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয়টি অনলাইন শিক্ষায় এক অনন্য স্থান দখল করেছে। আর তাদের কার্যক্রম যে ক্রমেই জনপ্রিয় থেকে জনপ্রিয়তর হয়ে উঠছে বিশ্বব্যাপী, তার প্রমাণও মিলছে। তাদের শিক্ষার্থীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে তাদের সাথে যুক্ত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা। সম্প্রতি তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে আরও ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে এখন সর্বমোট ৬২টি বিশ্ববিদ্যালয় কোরসিয়াতে পাঠ্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কোরসিয়ার যাত্রা মূলতই শুরু হয় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের প্রচেষ্টায়। শুরুতে তারাই কিছু কোর্স ডিজাইন করে চালু রাখে অনলাইনে। ধীরে ধীরে সাড়া বাড়তে থাকে এই উদ্যোগে। মাত্র বছরখানেক আগে শুরু হয় এর কার্যক্রম। কিন্তু এই অল্প সময়ের মধ্যেই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে যেতে থাকে এর কার্যক্রম। দেখতে দেখতে এতে যুক্ত হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা পেরিয়ে যায় ১ লক্ষ। শিক্ষার্থীদের চাহিদার সাথে পাল্লা দিতে গিয়েই কোরসিয়াতে যুক্ত হতে থাকে নতুন নতুন কোর্স। আর এসব কোর্স পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে এতে সংযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩-এ। তবে সেখানেই থেমে থাকেনি কোরসিয়া। সম্প্রতি আরও ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হয়েছে এর সাথে। ফলে এখন এতে যুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬২। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কেবল যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপই নয়, এশিয়ার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ইউনিভার্সিটি অব টোকিও, ন্যাশনাল তাইওয়ান ইউনিভার্সিটি, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিংগাপুর প্রভৃতি। ফলে এশিয়ার শিক্ষার্থীরাও নিজেদের এখানে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে যুক্ত করতে পারবেন বলে ধারণা করছেন কোরসিয়া কর্তৃপক্ষ। আর ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীর সংখ্যাও পেরিয়ে গেছে সাড়ে ২৯ লক্ষ। বর্তমানে এতে যুক্ত কোর্সের সংখ্যা সর্বমোট ৯২টি। আর বিশ্বের প্রধান প্রধান ৫টি ভাষায় এখানে লেখাপড়া করার সুযোগ পাচ্ছেন সকলেই। এখানকার কোর্সগুলোর শুরু থেকেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং এই জনপ্রিয়তার কারণেই কিছু কিছু কোর্সকে বলা হচ্ছে ম্যাসিভ ওপেন অনলাইন কোর্স। কোরসিয়ার অন্যতম প্রধান সুবিধা হচ্ছে এখানকার পড়ালেখা সম্পূর্ণ পরিচালিত হচ্ছে বিনামূল্যেই। অনলাইন ট্রাফিক বা অ্যাড-অন সার্ভিস থেকে কোরসিয়া আয় করলেও এখানে শিক্ষার্থীদের খরচ নেই। ফলে এখানে পড়ালেখার মাত্রাও বেড়ে যাচ্ছে। অবশ্য এতে করে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না, সে বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে শিক্ষা এবং প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের মতামত, অনলাইনে শিক্ষার এই উদ্যোগ গোটা বিশ্বের জন্যই মঙ্গল বয়ে নিয়ে আসবে। ভালো কাজের স্বীকৃতি মিলে থাকে সবসময়। সেই স্বীকৃতি পেয়েছে কোরসিয়াও। বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার ইতোমধ্যেই এটি বাগিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে টেকক্রাঞ্চের গত বছরের ‘সেরা সূচনা’ বা ‘বেস্ট স্টার্টআপ’-এর পুরস্কারটি বাগিয়ে নিয়েছে। ইয়াহু’র স্পন্সরে টেকক্রাঞ্চের এই পুরস্কারকে প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী পুরস্কার হিসেবেই গণ্য করা হয়ে থাকে। সবমিলিয়ে কোরসিয়ার জন্য সময়টা যাচ্ছে ভালো। সামনের দিনগুলোতে আরও দ্রুত নিজেদের প্রসারের জন্য কাজ করবে বলেই জানিয়েছে তারা। সার্বিকভাবে তা বিশ্বের জন্য ভালোই হবে।