ইন্টারনেটের ব্যবহারে এবার যুক্ত হচ্ছে প্রতিদিনের ব্যবহার্য প্রতিটি যন্ত্র। ঘরের বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা, ফ্রিজ, টেলিভিশন থেকে শুরু করে স্ট্রিট লাইট পর্যন্ত সংযুক্ত হবে ইন্টারনেটের সঙ্গে। মাসের বৈদ্যুতিক বিলে বাল্ব, ফ্রিজ, টিভি কোন যন্ত্র কতটা বিদ্যুত্ ব্যবহার করেছে তা জানা যাবে মেশিন টু মেশিন ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে। ফলে কোন যন্ত্রাংশে বেশি বিদ্যুত্ খরচ হলে তা নিজেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এদিকে আর্থিক লেনদেনসহ নিত্যদিনের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে মোবাইল ফোনের ব্যবহার বহুমাত্রিক করার বিষয়টি বার্সেলোনায় ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসের দ্বিতীয় দিনে বিভিন্ন সেমিনারে অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে আলোচিত হয়। এই আলোচনায় অংশ নিয়ে মোবাইল অপারেটর টেলিনরের ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের প্রধান আব্রাহাম ফ্স জানান, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় টেলিনর চালু করতে যাচ্ছে ‘এনএফসি’ নামে নতুন অর্থনৈতিক সেবা কার্যক্রম। এতে মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করা যাবে মানিব্যাগের বিকল্প হিসেবে।
ওয়ার্ল্ড মোবাইল কংগ্রেসে সিসকো’র প্যাভিলিয়নে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকতা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক মাহবুবুল আলম জানান, ‘মেশিন টু মেশিন’ ইন্টারনেট চালুর মাধ্যমে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে ইউরোপ-আমেরিকায়। এই মুহূর্তে মেশিন টু মেশিন প্রযুক্তিতে সবচেয়ে বেশি যুক্ত হয়েছে গাড়ি। ইন্টারনেট সংযুক্ত এই গাড়িগুলো যে কোন দুর্ঘটনার পর গাড়ি থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কল চলে যায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবা দফতরে। ফলে দ্রুত তাকে উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্টরা চলে আসছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগামী বছর থেকেই শহরের রাস্তায় এ ধরনের গাড়ির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে। বর্তমানে ইউরোপের রাস্তায় চলছে এ ধরনের প্রায় ৫ লাখ গাড়ি। তিনি জানান, বাংলাদেশের মত দেশে ‘মেশিন টু মেশিন’ ব্যবহারে ঘরের ভেতরের ব্যবহার্য যন্ত্রপাতিই বেশি প্রাধান্য পাবে।
দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালুর ব্যাখা দিয়ে টেলিনরের ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের প্রধান আব্রাহাম ফ্স বলেন, মানিব্যাগের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি স্মার্ট ফোন হ্যান্ডসেটে একটি বারকোড সংযুক্ত থাকবে। এই বারকোড ব্যবহার করে গ্রাহকরা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে কেনাকাটাসহ সব ধরনের ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করতে পারবেন। এই সেবা কার্যক্রম প্রচলিত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের চেয়ে পৃথক। প্রচলিত মোবাইল ব্যাংকিং-এ এসএমএস কিংবা মোবাইল ইন্টারনেটের মাধ্যমে নির্ধারিত ব্যাংকের একাউন্ট ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু ‘এনএফসি’ সেবায় হ্যান্ডসেটের বারকোডটিই কাজ করবে কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে। বারকোডের মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডেই লেনদেনের পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে যাবে। ফলে বিদ্যুত্, পানি কিংবা গ্যাস বিল পরিশোধের কাজটি নিমিষেই সম্পন্ন হয়ে যাবে। যে কোন কেনাকাটার ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনও হবে ঝুঁকি ছাড়াই। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আর দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই টেলিনর বিস্তৃত পরিসরে এনএফসি সেবা চালু করতে চায় বলে জানান টেলিনরের ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের ‘ইজি পয়সা’র কার্যক্রমের প্রধান খুররম মালিক। বাংলাদেশে টেলিনর গ্রুপের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা সৈয়দ তাহমিদ আজীজুল হক জানান, গ্রামীণফোন বাংলাদেশে এনএফসি সেবা দেবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
