ওয়াশিংটনের কাছে আমিনুল হত্যাকাণ্ড ‘হাইপ্রোফাইল’ ইস্যু

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৭
শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম হত্যার ঘটনা কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এটি একটি ‘হাইপ্রোফাইল’ ইস্যু। ওয়াশিংটন ডিসিতে নীতি-নির্ধারক আইন প্রণেতা, বড় বড় নেতা, শ্রমিক ফেডারেশনসহ সবাই এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। সবারই প্রত্যাশা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনাটির সন্তোষজনক সুরাহা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি এরিক বিয়েল গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় একথা জানান। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা (জিএসপি) অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে বাস্তব পরিস্থিতি দেখতে এই কর্মকর্তা সপ্তাহব্যাপী বাংলাদেশ সফর করেন। গতকাল বিকালে আমেরিকান সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন। তার সঙ্গে ছিলেন মার্কিন শ্রম দপ্তরের অর্থনীতিবিদ মাইকে দোনোভান ও আমেরিকান সেন্টারের পরিচালক ভিরাজ লাইবেলি। এরিক বিয়েল সাংবাদিকদের বলেন, আমিনুর হত্যাকাণ্ড সিআইডি তদন্ত করছে বলে সরকার জানিয়েছে। কিন্তু কিভাবে এটি হল কারা দায়ী তা নিরূপণ করা জরুরি। সফরকালে এরিক বিয়েল শ্রম, পররাষ্ট্র, বাণিজ্য, স্বরাষ্ট্র, শিল্প মন্ত্রণালয়, বিজিএমইএ, সিভিল সোসাইটি, শ্রমিক ইউনিয়ন, ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। কয়েকটি গার্মেন্টস কারখানা ঘুরে দেখে সেগুলোর পরিবেশ, শ্রম মান, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত হন। শ্রম আন্ডার সেক্রেটারি বলেন, আগামী ২৮ মার্চ মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরে (ইউএসটিআর) বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা বহালের ফলে শুনানিতে অংশ নেবে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকার ৩০ পৃষ্ঠা দীর্ঘ রিপোর্ট জমা দিয়েছে। রিপোর্টটি খুবই ভাল হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকার সেটি খতিয়ে দেখছে। রফতানি শিল্পের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পেতেই এই সফর বলে তিনি জানান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এরিক বিয়েল বলেন, জিএসপি ইস্যু কোন রাজনৈতিক বিষয় নয়। বুশ প্রশাসন থেকে শুরু করে ওবামা প্রশাসন পর্যন্ত বাণিজ্য ও শ্রম দপ্তরের কর্মকর্তারা জিএসপি ইস্যুটি নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন। বাণিজ্য নীতির আওতায় আইনী ইস্যু হিসাবেই জিএসপিকে দেখা হচ্ছে। মার্কিন শ্রম প্রতিনিধির দপ্তর অরাজনৈতিক। তিনি বলেন, জিএসপি সুবিধা বহালের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস বেশ সক্রিয় ও তত্পর ভূমিকা রাখছে। নিয়মিত মার্কিন সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায় ও আইন প্রণেতাদের তথ্য দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে গার্মেন্টস ও চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে মান উন্নয়ন করা জরুরি। ইপিজেডে শ্রম অধিকার দেয়া দরকার। গার্মেন্টস শিল্পে অগ্নিনির্বাপণে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে বিজিএমইএ, শ্রমিক ইউনিয়ন ও ক্রেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। তবে যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে কারিগরি সহায়তা দিবে। ইতিমধ্যে অগ্রগতি হয়েছে।