সোনারগাঁও উপজেলার মঙ্গলেরগাঁও গ্রামে গতকাল মঙ্গলবার সকালে সোনারগাঁও থানা পুলিশ সোয়াইদ (৫) নামে এক শিশুর চোখ উত্পাটিত ও জবাই করা লাশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় নিহতের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে অভিযুক্তদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ৮/১০টি ঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। অপহরণ ও হত্যার সাথে জড়িত অভিযোগে খালেক, নাছির, শাহ আলম ও লুত্ফুননেছা নামে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শিশু হত্যার ঘটনায় এলাকায় কান্নার রোল পড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে শিশু সোয়াইদ হোসেনকে (৫) অপরহণ করা হয়। ৮ দিন পর গতকাল সকালে এলাকার গোলজার হোসেনের পরিত্যক্ত বাড়িতে তার জবাই করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পিরোজপুর ইউনিয়নের মঙ্গলেরগাঁও গ্রামের মাসুদ মিয়ার ছেলে সোয়াইদ হোসেন ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নিজ বাড়ির পাশে রাস্তায় অন্যদের সাথে খেলাধুলা করছিল। সোয়াইদকে ঘুঘু পাখি দেয়ার কথা বলে অপহরণকারী চক্রের সদস্য নাছির ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই সোয়াইদ নিখোঁজ। কোথাও না পেয়ে পিতা নাজমুল বাদী হয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি নাছির (১৯), ইকবাল (২০), এমদাদ (২৬), মাজহারুল (২২), আব্দুল খালেক (৩০) ও লুত্ফুননেছার নাম উল্লেখ করে সোনারগাঁও থানায় মামলা করেন। পুলিশ ওইদিনই পলাতক ইকবালের পিতা খালেক মিয়াকে আটক করে। গতকাল সকালে গ্রামের গোলজার হোসেনের পরিত্যক্ত বাড়ির ঝোপের ভিতর শিশুর জবাই করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই পরিত্যক্ত বাড়ির পাশ দিয়ে কৃষক আব্দুল হাই জমিতে কাজ করতে যাওয়ার সময় দুর্গন্ধ পান। এগিয়ে গেলে একটি লাশ দেখতে পান। স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে নিহতের স্বজনরা গিয়ে সোয়াইদের লাশ শনাক্ত করেন। পুলিশ লাশ ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
