বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, শুধু সংবাদপত্রের কপি বিলি করার অভিযোগে বিচারপতি মিজানুর রহমান ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, তাতে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রপতি বিষয়টি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এটি সংবিধান সম্মত নয়।
বিচারপতি মিজানুর রহমান ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনে রাষ্ট্রপতির আহ্বানের প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (একাংশ) আয়োজিত সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। দক্ষিণ হলে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।
সভায় তিন দফা প্রস্তাব গৃহীত হয়। এতে বলা হয়, বিচারপতি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের গঠনের আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে, ইতিপূর্বে যেসব বিচারপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছিলো সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে সেগুলো তদন্ত করতে হবে, আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, সংবিধানে আছে—কোনো বিচারক গুরুতর অসদাচরণ করলে রাষ্ট্রপতি তা তদন্তে কাউন্সিলকে নির্দেশ দেবেন। কিন্তু বিচারপতি মিজানুর রহমান ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা গুরুতর অসদাচরণের মধ্যে পড়ে না। তারপরও রাষ্ট্রপতির এ নির্দেশে দুটি বিষয় প্রতীয়মান হয়। একটি হলো- সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতায় সরকার বিশ্বাস করে না। দ্বিতীয়ত, সরকার ব্লগারদের পক্ষ নিয়েছে, যে ব্লগাররা ইসলাম ও মহানবী (সা.) এর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছে।
সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, বিচারপতি মিজানুর রহমান ভুঁইয়া এমন একটি সংবাদ বিলি করেছেন যা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশের মাধ্যমে তা জনগণের সম্পদে পরিণত হয়েছে। অথচ এ কারণে ওই বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। আরো কয়েকজন বিচারপতির বিরুদ্ধে এর চেয়ে গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেগুলোর তদন্তে কোনো নির্দেশ দেননি রাষ্ট্রপতি। প্রধান বিচারপতিও এ ব্যাপারে নিশ্চুপ। বিচারের ব্যাপারে কোনো বৈষম্য থাকা উচিত নয়।
ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, স্বাধীন বিচার বিভাগকে টুটি ধরে মেরে ফেলার চেষ্টা চলছে। ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিচারপতি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি একটি পত্রিকার কাটিং অন্য বিচারকদের কাছে পাঠিয়েছেন। এটি কিভাবে আচরণ বিধির লঙ্ঘন হতে পারে তা ভেবে আমি বিস্মিত হই।
জয়নুল আবেদিন বলেন, শাহবাগের ব্লগাররা একটি করে দাবি করে, আর সরকার সে দাবি পূরণ করে। মনে হচ্ছে, দেশ পরিচালিত হচ্ছে শাহবাগ থেকে।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ গোলাম নবী, অ্যাডভোকেট মো. কামরুজ্জামান সেলিম প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন সমিতির কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট শাহ মুনীর শরীফ।
