বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরের ফেয়ারহিল কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেডের নামে পাচার করা অর্থ বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দিতে বলেছে সিঙ্গাপুরের আদালত। গতকাল মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের একটি আদালত এই আদেশ দেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানির সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বার্তা সংস্থা বিডি নিউজ ২৪ ডটকমকে জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো বাংলাদেশ থেকে এই অর্থ সিঙ্গাপুরে পাচার করেছিলেন। ফেয়ারহিল কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেড কোকোর একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। এটর্নি জেনারেল জানান, আদালতের আদেশে কোকোর পাচার করা ঠিক কতো টাকা বাংলাদেশ ফেরত পাচ্ছে তা ফেয়ারহিলের নথিপত্র পর্যালোচনার পর স্পষ্ট হবে।
এ প্রসঙ্গে বিডি নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ী সিউ চেংয়ের সহায়তায় সিঙ্গাপুরে ফেয়ারহিল কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন কোকো। সিঙ্গাপুরি নাগরিক সিউ চেং ছিলেন ওই কোম্পানির নমিনি ডিরেক্টর ও শেয়ার হোল্ডার।
সে সময় সিঙ্গাপুরের দৈনিক স্ট্রেইটস টাইমসের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মামলার তদন্তের বরাত দিয়ে বলা হয়, ২০০৪ সালের এপ্রিল মাসে আরাফাত রহমান কোকো জাস ট্রেডিং অ্যান্ড কনসালটিংয়ের সঙ্গে যৌথ ব্যবসা খোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর সিঙ্গাপুরের ইউনাইটেড ওভারসিস ব্যাংকে (ইউওবি) জাস ট্রেডিংয়ের নামে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়, যার পরিচালনাকারী ছিলেন কোকো ও লিম সিও চেং। এক বছর পর কোকো সিঙ্গাপুরে ফেয়ারহিল কনসালটিং নামের দ্বিতীয় কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। ইউনাইটেড ওভারসিস ব্যাংকে এ কোম্পানির নামেও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়, যা পরিচালিত হয় লিম সিও চেংয়ের স্বাক্ষরে।
২০০৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে রাজনৈতিক সঙ্কটের অজুহাত দেখিয়ে লিমকে কোম্পানি দুটি বন্ধ করে দিতে বলেন কোকো। সে সময় কোকো ফেয়ারহিলের অ্যাকাউন্টে থাকা ৯ লাখ ৬৭৭ আমেরিকান ডলার (১২ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার) ও জাসের অ্যাকাউন্টে থাকা ২০ লাখ ১৩ হাজার ৪৬৭ আমেরিকান ডলার সিও চেংয়ের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে বলেছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে সিঙ্গাপুর সরকার ওই দুটি অ্যাকাউন্টই ফ্রিজ করে রাখে।
প্রসঙ্গত অর্থ পাচারের একটি মামলায় আরাফাতের ছয় বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। সেই সঙ্গে জরিমানা করা হয় ১৯ কোটি টাকা। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে গ্রেফতারের পর সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি নিয়ে চিকিত্সার জন্য ব্যাংককে পাড়ি জমানো আরাফাত আর ফেরেননি। তার অনুপস্থিতিতেই সাজার এ রায় হয়।
