অটোনমিকে নিয়ে বিপদে এইচপি, ৬৮৫ কোটি ডলার ক্ষতি

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:০৮
সময়টা ভালো যাচ্ছে না এক সময়ে পিসি তৈরিতে বিশ্বের বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান এইচপি’র। গত বছরেই নিশ্চিত হয়, পিসি নির্মাণে আর বিশ্বের মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারছে না তারা। তাদের সেই শীর্ষস্থান দখল করে নেয় লেনোভো। তবে দ্বিতীয় স্থানটিতে বহাল তবিয়তেই রয়েছে তারা। দ্বিতীয় অবস্থানে থেকেও অবশ্য খুব বেশি লাভ হয়নি। সর্বশেষ তাদের মুনাফা প্রত্যাশার চাইতে অনেকটাই কমে গেছে। আর গত বছরে কিনে নেওয়া অটোনমিকে নিয়েও বিপদে রয়েছে তারা। গত বছরে ১১০ কোটি ডলারে অটোনমিকে কিনে নেয় এইচপি। তবে এই চুক্তির যাবতীয় ধারা মূলত সম্পাদিত হয় বর্তমান এইচপি সিইও মেগ হুইটম্যান দায়িত্ব নেওয়ার আগেই। প্রাক্তন সিইও শেন রবিনসন এবং লিও অ্যাপোথেকারের সময়েই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। আর এই চুক্তিতে এখন বড় ধরনের ঝামেলা দেখছে এইচপি। অটোনমির মালিকানা নিয়েই ঝামেলা রয়েছে বলে জানিয়েছে এইচপি। আর তাতে করে এই ঝামেলা মেটাতে এখন তাদের আদালতের শরণাপন্নও হতে হবে। এসব ঝামেলায় এইচপি’র শেয়ার মূল্য গত দশ বছরের সর্বনিম্নতে এসে দাঁড়িয়েছে। এদিকে অটোনমি নিয়ে ঝামেলায় তাদের শেয়ারপ্রতি ৩.৪৯ ডলার বা সর্বমোট ৬৮৫ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। অথচ এক বছর আগেও তারা লাভের মুখ দেখেছে নিয়মিত। এইচপি’র এই অবস্থার পেছনে অবশ্য পিসির চাহিদা কমার বিপরীতে ট্যাবলেট ও স্মার্টফোনের চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টিকেও অনেকেই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন। সময়ের সাথে সাথে এসব মোবাইল ডিভাইসের চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও এর সাথে তালমিলিয়ে এইচপি মোবাইল ডিভাইস নির্মাণে এগিয়ে আসতে পারেনি। ফলে তাদের অবস্থান পড়ে গেছে। আবার লেনোভো যেভাবে নতুন ব্যবসায়িক কৌশল নিয়ে মাঠে হাজির হয়েছে, তার সাথেও তাল মেলাতে পারেনি এইচপি। তবে খুব শীঘ্রই এইচপি এই ভগ্নদশা কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে আশাবাদী। এইচপি’র প্রধান নির্বাহী গেম হুইটম্যান সম্প্রতি এক বক্তব্যে জানান, ‘আমরা নতুন কিছু কাজ শুরু করেছি। সামনের প্রান্তিকে নতুন বাজার লক্ষ্য করে কিছু উদ্ভাবন নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। আমরা আশা করছি, আগামী প্রান্তিক থেকেই আমাদের আয় ও মুনাফা বাড়বে।’ সম্প্রতি নতুন একটি ট্যাবলেট পিসি দিয়ে মোবাইল ডিভাইসের বাজারেও পুনরায় প্রবেশ করেছে তারা, যা তাদের অবস্থান ফিরিয়ে আনবে বলে আশাবাদী তারা।