অন্য অনেক দিনের মতো সেদিনও আমেরিকারা সানডিয়াগোর জেলে এক মক্কেলের সাথে কথা বলতে গিয়েছিলেন অ্যাটর্নি অ্যারুবে লোপেজ। উদ্দেশ্য ছিল বিচারাধীন একটি মামলার আসামির হয়ে কোর্টে লড়ার আগে কিছু পরামর্শ করা। জেলের নিয়ম মেনে যথাসময়ে অপেক্ষা কক্ষ তথা ওয়েটিং রুমেও পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন হয়তো ঘন্টাখানেকের মধ্যেই আলোচনা শেষ করে বাড়ির পথ ধরবেন। কিন্তু বিধি বাম। একটু একটু করে আধ ঘন্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও যখন মক্কেল কিংবা জেলের অন্য কারও দেখা মিলছিল না তখন প্রথমবারের মতো কিছুটা দুশ্চিন্তা অনুভব করতে শুরু করেন অ্যারুবে। আর তার এই দুশ্চিন্তা বহুগুণে বেড়ে যায় যখন তিনি আবিষ্কার করেন যে, শুধুমাত্র অন্তহীন অপেক্ষাই নয়, বরং তার দিনটিকে আরও খারাপ করে তুলতে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে ওয়েটিং রুমের দরজাতেও। সাধারণত নিরাপত্তার স্বার্থেই এমনটা করা হয়ে থাকে। এছাড়া এ সময় যিনি দেখা করতে এসেছেন তার মোবাইল ফোনটিও রেখে দেওয়া হয় কারা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে। এমনিতে এই নিয়মগুলো কারও জন্য সমস্যা তৈরি না করলেও সেদিন জেলের ওয়েটিং রুমের দায়িত্বে থাকা রক্ষীরা অ্যারুবের উপস্থিতির কথা ভুলে যাওয়াতেই গোল বাঁধে। প্রথমে হাতের কাছে থাকা ইন্টারকমের সাহায্যেই কারারক্ষীদের তার আটকে পড়ার বিষয়টা জানানোর চেষ্টা করেন অ্যারুবে। কিন্তু ফোন ধরার কোনো লক্ষণ না দেখে চিত্কার করে কারারক্ষীদের ডাকার চেষ্টা শুরু করেন। আর এরপর শেষ চেষ্টা হিসেবে শুরু হয় ওয়েটিং রুমের দরজায় লাথি দেবার মাধ্যমে তার উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা। অবশেষে প্রায় চার ঘন্টা আটকে থাকার পর এক কারারক্ষীর কানে যায় অ্যারুবের দরজা বাড়ি দেওয়ার শব্দ। পরে সেই রক্ষীই এসে বন্দীর সাথে দেখা করতে এসে বন্দী হয়ে যাওয়া অ্যারুবেকে উদ্ধার করেন। এদিকে এই ঘটনার কারণে অ্যারুবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে আদালতে মামলা করবেন কি না সেটি নিশ্চিত না করলেও ঘটনাটির জন্য ইতোমধ্যেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় শেরিফ ও কমান্ডার জন ইনগ্রাসিয়া।
