গোপালগঞ্জে রিলে পদ্ধতির মসুর ডালের বাম্পার ফলন

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৪২
গোপালগঞ্জে বোনা আমনের সাথে রিলে পদ্ধতির মসুর চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ পদ্ধতিতে কৃষক প্রতি একরে ১৫ মণ মসুর ডাল ফলন পেয়েছেন। এ পদ্ধতিতে চাষ সহজ ও খরচ কম কিন্তু তুলনামূলক ফলন ও লাভ বেশি। গত রবিবার টুঙ্গিপাড়ার নিলফা গ্রামে অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসে এসব তথ্য জানানো হয়। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অসিত কুমার সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মাঠ দিবসে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোঃ খলিলুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন। মাঠ দিবসে টুঙ্গিপাড়ার ৪শ’ কৃষক অংশ নেন। জানা গেছে, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পের আওতায় এ বছর উপজেলার ৬০ বিঘা জমিতে রিলে পদ্ধতিতে মসুরের প্রদর্শনী আবাদ করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, প্রকল্প সমন্বয়কারী ও রিলে পদ্ধতির উদ্ভাবক ড. মোঃ আশরাফ হোসেন বলেন, রিলে হচ্ছে একটি ফসল থাকা অবস্থায় অন্য একটি ফসল বোনা। আমাদের দেশে মসুর চাষের উপযুক্ত সময় অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ। গোপালগঞ্জ জেলা নিচু এলাকা হওয়ায় জমিতে মসুর চাষের জন্য জো আসতে অনেক দেরি হয়। এজন্য কৃষক জমি চাষ করে মসুর বপন করতে পারে না। তাই আমন ধান কাটার ১০/১৫ দিন আগে যখন জমিতে কাদা থাকে তখনই ধানের মধ্যে মসুরের বীজ ছিটিয়ে বপন করা হয়। ফলে কৃষক সঠিক সময়ে মসুর বপন করতে এবং পরবর্তী ফসল উপযুক্ত সময়ে চাষ করতে পারেন। টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হরলাল মধু বলেন, মাঠ দিবসে উপস্থিত কৃষক এ পদ্ধতিতে উত্পাদিত মসুর ডালের ফলন দেখে অভিভূত। সহজ চাষ, স্বল্প খরচ ও অধিক লাভজনক এ পদ্ধতিতে মসুর চাষ করার জন্য কৃষক আগ্রহ প্রকাশ করেন।