চলতি আমন মৌসুমে ফলন ভালো হওয়ায় যেখানে কৃষকের মুখে হাসি থাকার কথা সেখানে ভর করেছে দুশ্চিন্তা, ধানের দাম না পাওয়ার কষ্ট। বর্তমানে হাট-বাজারে যে দরে ধান বিক্রি হচ্ছে তাতে কৃষকের উত্পাদন খরচই উঠছে না। এ বছর চাহিদামতো বৃষ্টি না হওয়ায় ফসল ফলাতে সেচের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে কৃষককে। ফলে বিঘা প্রতি তিন থেকে চার হাজার টাকা বেশি খরচ হয়েছে। কিন্তু ধানের দাম গত বছরের তুলনায় এবার মণ প্রতি ২শ থেকে ৩শ টাকা কম। ধান বিক্রি না করেও কৃষকের উপায় নেই! কারণ মহাজনের দেনার ভার রয়েছে কাঁধের ওপর।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত সারাদেশে ৪০ শতাংশ আমন কাটা শেষ হয়েছে। এ পরিমাণ জমিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উত্পাদন বেশি হয়েছে। চলতি মৌসুমে সারাদেশে ৫৬ লাখ ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৫ হাজার টন আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আবাদ হয়েছে ৫৫ লাখ ৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে। তবে তা গত মৌসুমের চেয়ে ১৪ হাজার হেক্টর বেশি। গত মৌসুমে ৫৫ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে ১ কোটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার টন ধান উত্পাদন হয়। এবার আমনের আবাদ ভালো হওয়ায় উত্পাদন গত মৌসুমের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে যে কৃষক মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল উত্পাদন করেছে তারা ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশ।
এদিকে কৃষকের কথা বিবেচনা করে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে এবার আমনের সংগ্রহ মূল্য সরকার একটু বেশি নির্ধারণ করেছে। এ বছর প্রতি কেজি আমন চালের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ টাকা। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে প্রতি কেজি চালের উত্পাদন খরচ হয়েছে ৩৪ টাকা। ২ টাকা মুনাফা ধরে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৬ লাখ টন আমন চাল সংগ্রহ করা হবে। প্রতিবছর সংগ্রহ মূল্য ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে তার একটা প্রভাব দেখা যায়। কিন্তু এবার সেটি অনুপস্থিত। আশা করা হচ্ছে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হলে তা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ধানের দাম কিছুটা হলেও বাড়বে।
গত রবিবার সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভা শেষে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাড. কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, বাজার পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণ করে চালের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা যে মূল্য নির্ধারণ করেছি তাতে কৃষক লাভবান হবেন। সংগ্রহ সন্তোষজনক হলে অতিরিক্ত দুই বা তিন লাখ টন চাল সংগ্রহ করা হতে পারে বলেও তিনি জানান।
সারাদেশে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩৬ টাকা কেজি দরে চালের যে সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে তার কোনো প্রভাব নেই ধানের বাজারে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। বর্তমানে আমন প্রকারভেদে ৪৪০ থেকে ৯১০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
