চট্টগ্রাম বন্দরের অর্থায়ন ও তত্ত্বাবধানে পটুয়াখালীতে দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দরের প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের ১২ সদস্যের বিশেষজ্ঞ টিম পটুয়াখালীর কাজলা নদীর রাবনাবাদ চ্যানেলে মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত সমীক্ষা শুরু হয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে ১৬ একর জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে কার্গো ল্যান্ডিং স্টেশনের জন্য টার্মিনালসহ প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। পূর্ণাঙ্গ বন্দর নির্মাণের জন্য প্রায় ৪ হাজার একর জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। রাবনাবাদ টার্মিনাল নির্মাণ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)-এর অধীনে করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্ডিন্যান্স ও সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের টেরিটরি বর্ধিতকরণ সংশোধনীর ব্যাপারে ইতিমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে পত্র দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়। আইন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনের পর তা গেজেট আকারে প্রকাশের নিয়ম রয়েছে।
সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ইতিপূর্বেই পটুয়াখালী জেলায় তৃতীয় সমুদ্র বন্দর নির্মাণের ব্যাপারে সম্মতি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরসহ তত্সংলগ্ন এলাকার জনগণের নিকট বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক ওয়াদা হিসেবে তৃতীয় সমুদ্র বন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তাই দ্রুত বন্দর নির্মাণের কাজ শুরুর জন্য দক্ষতা ও আর্থিকভাবে সক্ষম চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সার্বিক কর্মকাণ্ড গ্রহণ করা হয়েছে।
সমীক্ষা কাজে নিয়োজিত এক কর্মকর্তা জানান, যে স্থানে টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে উক্ত স্থান থেকে বঙ্গোপসাগরের মোহনার দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। বঙ্গোপসাগর থেকে টার্মিনাল পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার চ্যানেল ড্রেজিংসহ অন্যান্য মেইন্টেন্যান্স কাজ চালাতে হবে। বর্তমানে ওই চ্যানেলে প্রায় ৯ মিটার ড্রাফট বা গভীরতা রয়েছে। নিয়মিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ওই ড্রাফট ১২ মিটার পর্যন্ত করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান। চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ চলাচল করে থাকে। চট্টগ্রাম বন্দরও বঙ্গোপসাগরের মোহনা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অপরদিকে মংলা সমুদ্র বন্দর বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে। যার ফলে এর ড্রেজিং ও মেইন্টেন্যান্স সাশ্রয়ী নয়। মংলা বন্দরের পলি জমার হারও অনেক বেশি।
চট্টগ্রাম বন্দরে ক্লিংকার, গাড়িসহ যে সকল পণ্য ছাড় করাতে আমদানিকারকরা আগ্রহ দেখান না ওই সকল পণ্য বর্তমানে মংলা বন্দর দিয়ে বিশেষ সুবিধায় খালাস করা হয়। এদিকে জানা যায়, বিগত ৫০ বছরে রাবনাবাদ চ্যানেলে নদীর ড্রাফট ও নদীভাঙার পরিমাণ প্রায় অপরিবর্তিত।
চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান হাইড্রোগ্রাফার লে. কমান্ডার হাবিবুল ইসলামের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের বিশেষজ্ঞ টিম ট্রপোগ্রাফিক্যাল, হাইড্রোগ্রাফিক্যাল, নদীর নাব্যতা, ভূমির অবস্থা, পানি জরিপসহ ল্যান্ডিং স্টেশন এলাকার জরিপ কাজ করবেন। এছাড়া কার্গো ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে পটুয়াখালী ও বরিশালের মূল সড়কের সংযোগ সড়ক নির্মাণ ও অন্যান্য অবকাঠামো সুবিধা নির্মাণে কী পদক্ষেপ গ্রহণ দরকার তা নির্ণয় করা হবে। পটুয়াখালীর সাথে ল্যান্ডিং স্টেশনের ১০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৬ একর জমির ওপর ল্যান্ডিং স্টেশনসহ টার্মিনাল নির্মাণে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানা যায়। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলাধীন রাবনাবাদ কার্গো ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মিত হলে বরিশাল, ভোলা, খুলনা, দিনাজপুরসহ তত্সংলগ্ন এলাকার আমদানি পণ্য পরিবহন সহজতর হবে।
