‘আমার দেশ’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন খতিয়ে দেখা হচ্ছে

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৯
তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন নিয়ে যে কোনো ধরনের অপপ্রচার কিংবা অপপ্রচার সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সরকার সজাগ দৃষ্টি রাখছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘আমার দেশ’ পত্রিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সব ধরনের আইন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স আ্য্যক্ট অনুযায়ী পত্রিকা বন্ধ করার সুযোগ নেই বলে তিনি জানান। গতকাল তথ্য অধিদপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার দেশ’, ‘নয়াদিগন্ত’ এবং ‘সংগ্রাম’ পত্রিকা শাহবাগ চত্বরের তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন নিয়ে ‘জঙ্গী সাংবাদিকতা’ শুরু করেছে। এ পত্রিকাগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তারা এভাবে ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে উন্মাদনা সৃষ্টি করে দেশকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইনকিলাব পত্রিকা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা উস্কানীমূলক কিছু করবে না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত আহমেদ রাজীব হায়দারের ব্লগ আর্কাইভে দেখা গেছে, সেখানে তিনি জীবিত থাকা পর্যন্ত ধর্মবিরোধী কোনো বক্তব্য ছিল না। কিন্তু মৃত্যুর পর রাজীবের নামে এসব ধর্মবিরোধী বক্তব্য ‘নূরানী চাপা সংগ্রহ’ নামের একটি ব্লগে পাকিস্তানে প্রথম ছাপা হয়। এগুলো এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সংঘটিত সহিংস ঘটনার জন্য নেপথ্যের কুশিলব হিসাবে তিনি বিএনপিকে দায়ী করেন। এ সহিংসতা শুধু পরিচালনা করেছে জামায়াত। শিবিরের জঙ্গীরা এটি সারা দেশে মঞ্চস্ত করেছে আর এর পরিবেশনায় ছিল ‘আমার দেশ’ পত্রিকা।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ধর্মের সঙ্গে কারো বিরোধ নেই। কিন্তু প্রিয় নবীকে ঘিরে কোনো ধরনের অপপ্রচার বরদাশত করবে না সরকার। ধর্মের দোহাই দিয়ে অপপ্রচার চালনোর বিষয়টি ১৯৫২, ১৯৬৬, ১৯৬৯ এমনকি ১৯৭১ সালেও মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় একই গোষ্ঠী চালিয়েছে। কিন্তু দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তা মেনে নেয়নি। এবারও এতে কোনো কাজ হবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার কোনো কৌশল কাজে আসবে না। তথ্যমন্ত্রী যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় জাতীয় বায়তুল মোকাররম মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন্নকারীদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে উল্লেখ করে বলেন, যারা মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন্ন করে তারা ইসলামের বন্ধু নয়।