স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড.মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই তৈয়বার সুইসাইড স্কোয়াডের সদস্যরা বাংলাদেশে তত্পর রয়েছে। তারা বিদেশি রাষ্ট্রের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। এ ব্যাপারে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে তাদের গতিবিধি। তাদের সর্বাত্মকভাবে দমন করা সরকারের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।
গতকাল বুধবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে ডিকেটটিভ ট্রেনিং স্কুলের সংস্কার কাজের উদ্বোধন এবং হার্ভার্ড প্রোগ্রাম ইন ক্রিমিনাল জাস্টিস- বাংলাদেশ পুলিশ বিষয়ক এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্বের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ব্যাহত করতে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ওপর হামলার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অচিরেই সন্ত্রাসবাদ এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল করার অপচেষ্টা ইতিহাসের অতীত উপকরণে পর্যবসিত হবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসীরা দেশের কয়েকটি স্থানে সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিকের উপরে হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ব্যাহত করতেই এসব মুখোশধারী সন্ত্রাসী এ ধরনের হামলা চালিয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতার করে দেশের প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরের সহিংস কর্মকাণ্ডে একশ্রেণীর পুলিশ সহায়তা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। মাহমুদুর রহমান ও তার সহযোগীদের অপতত্পরতার বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্তক রয়েছে। মাহমুদুর রহমানের করা ভারতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেসব মানুষ আমাদের বাংলাদেশের স্থায়িত্বে বিশ্বাসী নয় তারা এমন কথা বলবে এটাই স্বাভাবিক। তারা যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে কথা বলবে এটাতে আমি বিস্মিত হইনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেছুর রহমান ও হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার মিলা চেরিনাসহ অন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
