সাক্ষাত্কারে টেলিনরের সিইও

গ্রামীণফোনের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের কোন সম্পর্ক নেই

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩২
গ্রামীণফোনের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের কোন সম্পর্ক নেই, আগেও ছিল না। আবারও স্পষ্টভাবে এ কথা জানালেন গ্রামীণফোনের মূল প্রতিষ্ঠান টেলিনর গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জন ফ্রেডরিখ বাকসাস। গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে গঠিত সরকারি কমিশনের প্রতিবেদনকেও তিনি ‘প্রাথমিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। ওয়ার্ল্ড মোবাইল কংগ্রেসে যোগ দিতে এই মুহূর্তে বার্সেলোনায় অবস্থানরত ইত্তেফাকের এ প্রতিবেদকসহ বাংলাদেশি সাংবাদিকদের দেয়া বিশেষ সাক্ষাত্কারে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন টেলিনর নির্বাহী। এ বৈঠক সম্পর্কে বাকসাস বলেন, থ্রি জি লাইসেন্স নীতিমালায় অপারেটরদের বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য মন্ত্রীকে বলেছি। তবে এ বৈঠক সম্পর্কে সাহারা খাতুন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে ওয়ার্ল্ড মোবাইল কংগ্রেস অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা করা হয়েছে। মোবাইল খাতে সেরা ৩৭টি পুরস্কারের মধ্যে ‘সেরা গ্রাহক সেবা’ খাতে বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘মোবাইল ই-টিকেটিং’ সার্ভিসের জন্য শ্রেষ্ঠত্বের সম্মাননা পেয়েছে ভারতের মহিন্দ্র কমভিভা মবিকুইটির এমএফএস প্লাটফরম। মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসের নতুন ভেন্যু ‘লা ফিরা গ্রান ভায়া’ হলে টেলিনরের প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের নানা বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন ফ্রেডারিখ বাকসাস। গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণ ফোনের সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, ১৯৯৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে গ্রামীণফোনের কোন সম্পর্ক ছিল না। গ্রামীণফোন বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে টেলিনরের বিনিয়োগের মাধ্যমে। প্রতিটি পর্যায়ে বিনিয়োগ করেছে টেলিনর। তিনি বলেন, টেলিনরের সঙ্গে যৌথ অংশীদার গ্রামীণ টেলিকম। আর এই অংশীদারিত্বের শর্ত ছিল গ্রামীণফোনের গ্রাহকদের জন্য কম মূল্যে হ্যান্ডসেট সরবরাহ। কারণ বাংলাদেশে ১৯৯৭ সালের দিকে মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় সমস্যা ছিল হ্যান্ডসেটের উচ্চ মূল্য। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার ছড়িয়ে দিতে কম মূল্যে হান্ডসেটের বিকল্প ছিল না। কম মূল্যে হ্যান্ডসেট সরবরাহের কাজটিই করেছে গ্রামীণ টেলিকম। সম্প্রতি গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে গঠিত সরকারি কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখিত ‘গ্রামীণ টেলিকম গ্রামীণ ব্যাংকেরই একটি প্রতিষ্ঠান’—এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বাকসাস বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক এবং গ্রামীণ টেলিকম একই প্রতিষ্ঠান নয়। গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে গ্রামীণফোনের যৌথ অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংকের কোন ভূমিকা কিংবা সম্পর্ক নেই, ছিল না। এ সম্পর্কে সরকারি কমিশন যে প্রতিবেদন দিয়েছে সেটাও ‘প্রাথমিক’। বাংলাদেশে থ্রি জি সেবা চালু করা সম্পর্কে বাকসাস বলেন, গ্রামীণফোন এই মুহূর্তে উন্নত ডাটা সার্ভিস দিতে চায়। মোবাইল ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা বাড়ানোর জন্যও কাজ করছে গ্রামীণ ফোন। এ জন্য থ্রি জি প্রযুক্তিতে যেতে গ্রামীণ ফোনের প্রস্তুতিও রয়েছে। কিন্তু থ্রি জি নীতিমালার ক্ষেত্রে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের যেমন রাজস্ব পাওয়া বিষয় রয়েছে, তেমনি এ খাতে যারা বিনিয়োগ করবেন তাদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। দু’পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা হয় এমন একটি পরিবেশ অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, এখন টেলিনর সরাসরি সবক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে চায় না। একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রামীণফোন নিজস্ব ক্ষমতায় বিনিয়োগ করবে। বাংলাদেশে গ্রামীণফোনের যাত্রাপথে প্রায় সাড়ে চার কোটি গ্রাহক, সরকার এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন বাকসাস। গ্লোবাল মোবাইল অ্যাওয়ার্ড: মোবাইল খাত সংশ্লিষ্ট ৩৭টি খাতে ‘গ্লোবাল মোবাইল অ্যাওয়ার্ড’ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য মোবাইল ই-টিকেটিং এর জন্য ‘বেস্ট কনজ্যুমার মোবাইল সার্ভিসের জন্য সেরা পুরস্কার পায় মহিন্দ্র কমভিভা মবিকুইটি এমএফস প্লাটফরম। সেরা স্মার্টফোন নির্মাতা হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে স্যামসাং, গত কংগ্রেসেও স্যামসাং এ শাখায় সেরা পুরস্কার জিতেছিল। এ বছর মোবাইল ইলেকট্রনিকস বেস্ট অ্যাওয়ার্ডও জয় করেছে স্যামসাং গ্যালাক্সি ক্যামেরা। তবে স্মার্ট ট্যাবলেট তৈরিতে সেরা পুরস্কার অর্জন করেছে গুগল এবং অ্যাসুস। স্পেকট্রাম ফর মোবাইল ব্রডব্যান্ড অ্যাওয়ার্ড জিতেছে নিউজিল্যান্ড সরকার। এ বছর গ্লোবাল মোবাইল অ্যাওয়ার্ডের পুরস্কারে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন ব্রিটিশ লেখক ডেভিড উইলিয়ামস।