মুমিন জীবনে ঈমানী পরীক্ষা অবশ্যম্ভাবী

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:১৫
যুগে যুগে আল্লাহর মুমিন বান্দাদেরকে তাদের জান, মাল, ইজ্জত আব্রুর কুরবানী করতে হয়েছে। আল্লাহ তাঁর দ্বীনের জন্য যাদেরকে পছন্দ করেছেন, তাদেরকে বিভিন্ন সময় পরীক্ষা করেছেন। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান—মাল ও ফল-ফসলের স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও’ (সূরা আলবাকারা : ১৫৫)। কুরআনে অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘নাকি তোমরা ভেবেছ যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে অথচ এখনো তোমাদের নিকট তাদের মত কিছু আসেনি, যারা তোমাদের পূর্বে বিগত হয়েছে। তাদেরকে স্পর্শ করেছিল কষ্ট ও দুর্দশা এবং তারা কম্পিত হয়েছিল। এমনকি রাসূল ও তাঁর সাথি মুমিনগণ বলছিল, ‘কখন আল্ল¬াহর সাহায্য আসবে’? জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্ল¬াহর সাহায্য নিকটবর্তী’ (সূরা আলবাকারা : ২১৪)। দুনিয়ার জীবনে কোন মুমিন বান্দাই পরীক্ষা থেকে রেহাই পাননি। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘মানুষ কি মনে করে যে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? আর আমি তো তাদের পূর্ববর্তীদের পরীক্ষা করেছি। ফলে আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন, কারা সত্য বলে এবং অবশ্যই তিনি জেনে নেবেন, কারা মিথ্যাবাদী’ (সূরা আল আনকাবূত : ২-৩)। হাদীসে এসেছে, আনাস রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিপদ ও পরীক্ষা যত কঠিন হবে তার প্রতিদানও তত মূল্যবান (এ শর্তে যে মানুষ বিপদে ধৈর্যহারা হয়ে হক পথ থেকে যেন পালিয়ে না যায়) আর আল্লাহ যখন কোন জাতিকে ভালোবাসেন তখন অধিক যাচাই ও সংশোধনের জন্য তাদেরকে বিপদ ও পরীক্ষার সম্মুখিন করেন। অতঃপর যারা আল্লাহর সিদ্ধান্তকে খুশি মনে মেনে নেয় এবং ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হন। আর যারা এ বিপদ ও পরীক্ষায় আল্লাহর ওপর অসন্তুষ্ট হয় আল্লাহও তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হন (তিরমিযী)। দুনিয়ার জীবন যুদ্ধে একজন মুমিন তাঁর ঈমানের দাবি পূরণে থাকেন সদা আপসহীন। সংগ্রামের পথে তিনি খুঁজে পান জীবনের সফলতা। কুরআনে এসেছে, ‘মুমিন কেবল তাঁরাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, তারপর সন্দেহ পোষণ করেনি। আর নিজদের সম্পদ ও নিজদের জীবন দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম করেছে। এরাই সত্যনিষ্ঠ’ (সূরা হুজরাত : ১৫)।