বরখাস্ত হতে যাচ্ছেন হোয়াটমোর!

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৩১
কোচদের চাকরি অনিশ্চয়তার। সেই অনিশ্চয়তাটা বিশ্বের যে কোনো জায়গার চেয়ে মনে হয় পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলে একটু বেশি। এবার পাকিস্তানের ধারাবাহিকতায়ই সে দেশের বর্তমান কোচ ডেভ হোয়াটমোর বরখাস্ত হতে যাচ্ছেন বলে সংবাদ মাধ্যমের খবর। পাকিস্তানী সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, মার্চের শেষ দিকে দল দেশে ফেরার পর বোর্ড চেয়ারম্যান জাকা আশরাফ কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এদিকে হোয়াটমোরকে বাদ দেয়ার জন্য প্রকাশ্যেই সুপারিশ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মইন খান। তার মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ হওয়ার পর এই কোচকে আর ধরে রাখার কোনো অর্থ হয় না। স্থানীয় ‘জং’ পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, তৃতীয় টেস্টে ইনিংস পরাজয়ের পরপরই হোয়াটমোর ইমরান ফরহাতের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অথচ এ ম্যাচে দুই ইনিংসে ৩০ এবং ৪৪ রান করে ইমরান ফরহাত ছিল পাকিস্তান দলের সেরা পারফরমার। দলের স্বার্থবিরোধী ও স্বার্থপরের মত খেলেছেন বলে ফরহাতকে হোয়াটমোর অভিযোগ করেছেন বলেও প্রকাশ হয়েছে। রিপোর্টে পরিষ্কার লেখা হয়েছে, ‘এ বিষয়ে দু’জনের মধ্যে বিতর্ক হয়। কোচকে ফরহাত বলেন যে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাকীদের চেয়ে তিনি ভালো খেলেছেন। তাকে দোষারোপ না করতেও হোয়াটমোরকে বলেন ফরহাত। পাশাপাশি ম্যাচে দলের নেতিবাচক এ্যাপ্রোচের কথাও বলেন তিনি।’ এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজে পাকিস্তান দলের হোয়াইটওয়াশ হওয়ার দায় নিয়ে হোয়াটমোরকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন সে দেশের সাবেক অধিনায়ক মইন খান। দক্ষিণ আফ্রিকায় এমন করুণভাবে পরাজয়ের জন্য কোচ ও অধিনায়কের পরিকল্পনা ও কৌশলের অভাবকে দায়ী করেন সাবেক এ উইকেটরক্ষক। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের কোচ হিসাবে একজন পাকিস্তানীকে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অবশ্যই গুরুত্বের সাথে চিন্তা করা উচিত বলে আমি মনে করি। বিদেশি কোচরা আমাদের ক্রিকেট সংস্কৃতির অনুযায়ী কাজ করে না। কারণ তারা আমাদের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ঠিক মত যোগাযোগই স্থাপন করতে পারে না।’ মইন বলেন, ‘মহসিন খানের মত সফল কোচকে সরিয়ে দিয়ে হোয়াটমোরকে নিয়োগ দানের সিদ্ধান্তটা সঠিক ছিল বলে আমি মনে করি না। কারণ কোচ হিসাবে হোয়াটমোর এক বছরে ব্যর্থ হয়েছেন। আমাদের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভালভাবে কাজ করতে তিনি অক্ষম বলে আমি মনে করি। তার পদত্যাগ করা উচিত কিংবা বোর্ডের উচিত তার পরিবর্তে স্থানীয় কাউকে নিয়োগ দেয়া।’ দক্ষিণ আফ্রিকানদের কাছে পাকিস্তান দলের অসহায় আত্মসমর্পণ দেখে তিনি খুবই হতাশ বলে জানান মইন। তিনি বলেন, ‘তিন টেস্টই চারদিনের মধ্যেই পরাজিত হতে দেখে অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছি। এটাকে আমি টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যর্থতা হিসাবে দেখছি। আমরা দেখেছি পুরো সিরিজেই খেলোয়াড়রা একই ভুল বার বার করছে। দুর্বল কৌশল ও পরিকল্পনার জন্যই এটা ঘটেছে। পুরো সিরিজেই আমরা দলের কম্বিনেশনটা পরিবর্তন অব্যাহত রাখলাম। আমাদের বোলাররা আমাদের শক্তি। কিন্তু প্রতি ম্যাচেই আমরা নতুন আক্রমণ নিয়ে এলাম। টিম ম্যানেজমেন্টের কৌশল আমি বুঝতে পারলাম না।’ সংযুক্ত আরব আমিরাতে গত বছর ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করা পাকিস্তান দলের সাবেক কোচ ও প্রধান নির্বাচক মহসিন খান বলেন, পুরো সিরিজেই ক্রমাম্বয়ে দলের অধপতন হয়েছে। মহসিন বলেন, ‘পুরো সিরিজেই আগ্রাসী মনোভাব অনুপস্থিত ছিল। কঠিন সময়ে খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত রাখাটা টিম ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব। কিন্তু এ সিরিজে সমম্বিতভাবে দলকে ব্যবহার করাতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।’