বাগেরহাটের চিতলমারীতে খালে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের চিতলমারী, মোল্লাহাট ও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খালে বাঁধ দেয়ায় চলতি বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ না দিতে পেরে কৃষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগীদের নামে মামলা হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রভাবশালীরা নির্বাহী কর্মকর্তার আদেশ অমান্য করে খালে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরা অব্যাহত রেখেছে। এ ঘটনায় এলাকায় দু’টি গ্রুপের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুলু বিলকিস বানু জানান, উপজেলার মাছুয়ার খাল নামক একটি জলমহালের একাংশ জনৈক হাসানকে ইজারা দেয়া হয়। বাকি অংশ জনসাধারণের জমিতে সেচের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী রাসেল শিকদার (চিলে) তার লোকজন নিয়ে পুরা জলমহল দখল করেন এবং খাল থেকে পানি ফেলে দিয়ে মাছ ধরতে শুরু করে। এ ঘটনার পর গত মঙ্গলবার জমিতে পানি না দিতে পেরে এলাকার কৃষকরা একত্রিত হয়ে রাসেলকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় দু’পক্ষের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়। এ খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুলু বিলকিস বানু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খালের বাঁধ ভেঙ্গে দিতে ও মাছ ধরা বন্ধ রাখতে বলেন। কিন্তু প্রভাবশালী রাসেল (চিলে) উল্টো ভুক্তভোগীদের নামে চিতলমারী থানায় মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষদের এলাকাছাড়া করে উক্ত খালের বাঁধ ও মাছ ধরা অব্যাহত রেখেছেন।
এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর আশংকা, যেকোন সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে। এ ব্যাপারে কৃষক পক্ষের মৈয়ার মোল¬া জানান, খালের দু’পাশে কয়েকশ একর বোরো ধানের জমি রয়েছে। সময়মত সেচ না দিতে পারলে কৃষকদের সীমাহীন ক্ষতি হবে। অপরদিকে রাসেল শিকদার (চিলে) জানান, প্রতিপক্ষরা তার ও তার লোকজনের উপর হামলা চালিয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফিরোজ আহম্মেদ জানান, সংঘর্ষের খবর শুনে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বাগেরহাট পুলিশ সুপার খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
