গঙ্গাচড়ার আলু নিয়ে চরম বিপাকে কৃষক

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:২৪
“কান ধরি তওবা করনু জীবনে মুই আর আলু গারবারনাও-ইয়ার চায়া মোর ভুট্টা গারায় (রোপণ) ভাল আছিল” এভাবেই কথাগুলো বলছিল উত্তর কোলকোন্দ গ্রামের কৃষক নয়া মিয়া। পর পর দু’বছর লোকসান গুনার পর এ বছর অনেক আশা নিয়ে আলু চাষ করলেও এবারও লোকসান গুনতে হচ্ছে রংপুরের গঙ্গাচড়ার আলু চাষিদের। নয়া মিয়ার মত হাবু কুঠিরপাড় গ্রামের কৃষক নবির আলী, মমিন মিয়াসহ এ অঞ্চলের হাজার হাজার চাষীর আলু যেন মরণ ফাঁস হয়ে দাড়িয়েছে। এ যাবতকালের সর্বনিম্ন দরে বিক্রি হচ্ছে আলু। কৃষক আলু তুলে বোরো চাষের জন্য উদগ্রীব হলেও দাম কমের কারণে আলু উঠাতে পারছে না। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে গ্রানুলা জাতের আলু বস্তা প্রতি (৮৫ কেজি) ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে। এ অবস্থায় কৃষকের বুকে শুধু চাপা কান্না। নিদ্রাহীন রাত কাটাচ্ছে অনেক কৃষক। কোল্ডস্টোরেজে রাখলে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হবে এবং বাজারে ক্রেতা না থাকার কারণে কৃষক বাধ্য হয়ে আলু জমি থেকে নিয়ে এসে বাড়িতেই সংরক্ষণ করছেন। এতেও কৃষকদের অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। ব্যবসায়ীরাও গত দু’বছর লোকসান করায় ব্যবসায়ীরা এবার আলু কিনতে সাহস পাচ্ছেন না। অনেকের মূলধনও খোয়া গেছে। হাবু গ্রামের আলু ব্যবসায়ী ইলিয়াস আলী জানান, গত বছর প্রায় ৫ হাজার বস্তা আলু কিনে কোল্ডস্টোরেজে রেখেছিলেন। কম দামে আলু বিক্রি করায় গতবছর তার দেড় লাখ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে।