ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানুষ এখন আতঙ্কিত উদ্বিগ্ন। একের পর এক ককটেল ফাটছে। ককটেল সন্ত্রাসে শহর কেঁপে উঠছে। হঠাত্ হঠাত্ ককটেল বিস্ফোরণে সাধারণ মানুষ বিচলিত। মঙ্গলবার রাতেও ১০/১২টি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। পাইকপাড়া, কালাই শ্রীপাড়াসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার বাসিন্দাদের ঘুম ভাঙ্গে ককটেলের বিকট আওয়াজে। সদর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তাও ঐ রাতে ককটেল বিস্ফোরণের কথা স্বীকার করেন। বলেন, আমরা বিস্ফোরণের উত্স স্থল খুঁজে পাইনি। প্রথমে মনে হয়েছিল শহরের লোকনাথ পাড় এলাকা থেকে শব্দটি এসেছে। সোমবার বিকেলে গণজাগরণ মঞ্চের আশপাশসহ শহরের অন্তত ১০টি স্থানে কমপক্ষে ২০টি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। ককটেল বিস্ফোরণের এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পুলিশও এর কোন কুল-কিনারা করতে পারেনি। চিহ্নিত করতে পারেনি কারা এর সঙ্গে জড়িত। প্রত্যক্ষ্যদর্শীদের কয়েকজন জানান, কয়েকটি মোটর সাইকেলে করে সন্ত্রাসীরা আসে। তারা হেলমেট ও মুখোশ পরা ছিল। তার দু’হাতে পিস্তল উঁচিয়ে দ্রুত কেটে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে ২৪ ফেব্রুয়ারি জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। এরপর মঙ্গলবার রাত ৪টায় ১০/১২টি ককটেলের বিষ্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। কমিটিতে একটি গ্রুপের নেতাদের কোন পদ দেয়া হয়নি। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রণ সাজের খবর পাওয়া গিয়েছিল। এর প্রমাণও মেলে। গত রবিবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের সম্মেলনস্থলের ৫০ গজ দূরে দু’-দফায় ৪টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পুলিশ ঐ সময় তিনটি পেট্রোল বোমা, দু’টি ককটেল, এক রাউন্ড শটগানের গুলি ও দেশিয় অস্ত্রসহ ৩ ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রব জানান, ককটেল বিষ্ফোরণের ঘটনার তদন্ত চলছে।
