একটি বিরল প্রজাতির লক্ষ্মীপেঁচা অবমুক্ত করা হয়েছে সিলেটের টিলাগড় ইকোপার্কের গহীন অরণ্যে। পেঁচাটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘টাইটো আলবা’, ইংরেজী নাম ‘বার্ন আউল’। গত সোমবার লক্ষ্মীপেঁচাটি গ্রামের গহীন বন ছেড়ে সিলেট নগরীর রায়নগরে আশ্রয় নেয়। পরে পাখিটিকে উদ্ধার করেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ভেটেরিনারী অনুষদের ছাত্র জামাল খান। আমাদের দেশে পাখিটি লক্ষ্মীপেঁচা নামে পরিচিত। এটি খুবই বিরল পেঁচা বলে জানা গেছে। সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা একে দেবীর বাহন হিসাবে মনে করেন। জামাল খান জানান, তিনি পাখিটিকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে পেঁচাটিকে প্রাধিকার’র কাছে হস্তান্তর করেন। গত মঙ্গলবার দুপুরে সিকৃবির প্রাণী বিষয়ক সংগঠন ‘প্রাধিকার’র কর্মীরা পেঁচাটিকে ইকোপার্কে অবমুক্ত করেন। প্রাধিকার কর্মীদের যত্নে পাখিটি সুস্থ হয়ে ওঠে।
প্রাধিকারের সভাপতি রাহুল দাস তালুকদার জানান, জামাল খানের প্রচেষ্টায় পেঁচাটি প্রাণে রক্ষা পেয়েছে। পাখিটি সুস্থ করে তুলতে খাবার ও স্যালাইন দেয়া হয়। তিনি জানান, পেঁচা দিনের বেলা সাধারণত দেখে না। পেঁচাটিকে অবমুক্ত করতে প্রাধিকার কর্মীরা রাতে ইকোপার্কে যান। ছেড়ে দেয়ার পর বনের অন্ধকার ভেদ করে আপন ঠিকানায় উড়ে যায় লক্ষ্মীপেঁচাটি।
প্রাধিকার কর্মীরা বলেন, লক্ষ্মীপেঁচারা সত্যিই এক লক্ষ্মী পাখি। এদের খাদ্য ধেনো ইঁদুর। শহরে ধেনো ইঁদুর তো মেলে না। তাই তারা শহরের গেছো ও নেংটি ইঁদুর খায়। গেছো ইঁদুর গাছের ফল-ফলাদির শত্রু। লক্ষ্মীপেঁচারা এদের খেয়ে মানুষের মহা উপকার করে। এরা নিশাচর পাখি। দিনে কোটরে-খোঁড়লে আত্মগোপনে থাকে। দেশের খুব কম অরণ্যে এদের এখন দেখতে পাওয়া যায়।
লক্ষ্মীপেঁচাটি অবমুক্তকালে উপস্থিত ছিলেন প্রাধিকারের উপদেষ্টা ও সিকৃবি’র মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. আলী জিন্নাহ, এনাটমি এন্ড হিস্টোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাসুদেব পাল, প্রাধিকার কর্মীদের মধ্যে মিথুন, জয় প্রকাশ, নাঈম, বিশ্বজিত, আকাশ প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ৫ বছর আগে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স অনুষদের কয়েকজন শিক্ষার্থীর উদ্যোগে গঠিত হয় প্রাধিকার। সংগঠনটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে থাকে।
