সাঈদীর নিজ জেলা পিরোজপুরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৩
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই টিভির সামনে যেন বসেছিল পিরোজপুরের মানুষ। এখানের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ৭১-এ মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলার রায় কি হয় তা জানতে টিভি সেটের সামনে পিরোজপুরবাসীর এ অধীর অপেক্ষা ছিল রায় ঘোষণা অব্দি। রায়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশের পর সবাই-ই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিল যার যার অনুভব অনুযায়ী। সাঈদীকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল ফাঁসির ঘোষণা দেয়ায় পিরোজপুরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রকাশ্যে কেউ কেউ এ রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। আবার অনেকে ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন। তবে রায়ে যারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা ছিলেন অনেকটা নিরব এবং অপ্রকাশ্য। জেলা শহরে যুবলীগ কর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করে এবং মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস প্রকাশ করেছে, আনন্দ মিছিল হয়েছে সাঈদীর বাড়ী জিয়ানগর উপজেলা সদরে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে। স্বরূপকাঠিতেও অনুরূপ মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ। এ দিকে সাঈদীর গ্রামের বাড়ী জিয়ানগর উপজেলার সাউথখালীতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, তার বাসভবন “সালেহা কটেজ” নির্জন। হাফিজা বেগম নামে একজন কেয়ারটেকার তালাবদ্ধ বাড়ী পাহারা দিচ্ছে। সেখানে সাঈদীর কোনো নিকট-আত্মীয়েরও দেখা মেলেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার জিয়ানগরসহ পিরোজপুর জেলা শহরে এক ধরনের থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছিল। হরতালের আহ্বান থাকায় শহরের জনজীবনে ছিল অস্থিরতা-অনিশ্চয়তা। শহর ছিল ফাঁকা-ফাঁকা। মানুষের চলাচল ছিল খুবই কম। তবে রাস্তা-ঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দখলে ছিল। সাঈদীর মুক্তির দাবিতে ডাকা হরতাল পিরোজপুরে শান্তিপূর্ণ ভাবে পালিত হয়েছে। শহরের দোকানপাট ছিল বন্ধ। বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন চলা করেনি। সকালে পিরোজপুর-নামাজপুর সড়কের ডিসি পার্ক এলাকায় জামায়াত-শিবিরকর্মীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে গাছ ফেলে পিকেটিং করে। এখানে তারা সড়ক অবরোধ করে সাঈদীর মুক্তি দাবি করে শ্লোগান দেয়। খবর পেয়ে বেলা ১০টার দিকে পুলিশ গেলে শিবির কর্মীরা সরে যায়। পুলিশ রাস্তার গাছ সরিয়ে ফেলে। শহরতলীর ধুপপাশা এলাকায় পিরোজপুর-হুলারহাট সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে দেয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা। এখানে তারা একটি ইজি বাইকে আগুন ধরিয়ে দেয়। জিয়ানগর উপজেলায়ও হরতাল পালিত হয়।