দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার তাগিদ বিশ্বব্যাংকের

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৬
বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ঙ কিম বাংলাদেশে দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার তাগিদ দিয়ে বলেছেন, সুশাসন ও দুর্নীতি বিরোধী ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে যাতে প্রতিটি ডলারই দরিদ্র জনগণকে সাহায্যের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে ব্যবহূত হয়। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাতে ওয়াশিংটনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠকের সময় একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত রাখারও আশ্বাস দেন। দাতাদের সূত্রে বৈঠক সম্পর্কে এ খবর পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংক প্রধানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর বৈঠকটি ছিল মূলত সম্পর্কোন্নয়নের একটি উদ্যোগ। তাতে কিছুটা হলেও সফলতা এসেছে। পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে সরকারের সঙ্গে ব্যাংকের যে তিক্ততা তৈরি হয়েছে তার প্রভাব যাতে চালু প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যত্ প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে অহেতুক অন্তরায় হয়ে না দাঁড়ায় সে জন্যেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে চালু প্রকল্পগুলো ঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণের জন্যে তৃতীয় পক্ষ দিয়ে তদারকির একটি কর্মসূচি চালু করেছে। এই কর্মসূচির নাম দেয়া হয়েছে ‘থ্রি এস’। এই ‘থ্রি এস’ কর্মসূচির প্রথম ‘এস’ - এর অর্থ হলো সেফগার্ড। এর মাধ্যমে একটি প্রকল্প তদারকির জন্যে বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কথা বলা হয়। দ্বিতীয় ‘এস’ - এর অর্থ হলো সিস্টেম। এর মাধ্যমে প্রকল্প তদারকির জন্যে সরকারের যে সব ব্যবস্থা আছে সেগুলোকে শক্তিশালী করার কথা বলা হয়। আর তৃতীয় ‘এস’ - এর অর্থ হলো সান শাইন। এর মাধ্যমে মূলত কোন ধরনের রাখ-ঢাক না করে স্বচ্ছভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হয়। প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্যাদি সবার জন্যে উন্মুক্ত করার ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী চালু থাকা সাত প্রকল্প এ কর্মসূচির আওতায় নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ নতুন বিনিয়োগ না করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। এদিকে ওয়াশিংটন বৈঠক সম্পর্কে গতকাল বিশ্বব্যাংকের তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কিভাবে সুশাসন ও দেশের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল আরও বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি জনগণের কাছে পৌঁছানো যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ঙ কিম বৈঠকে বলেন, দ্রুততর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আরও দ্রুত দরিদ্র মানুষের সংখ্যা হ্রাসের জন্যে একত্রে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ লক্ষণীয় অগ্রগতি লাভ করেছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলে গত ১০ বছরে দেড় কোটি লোক দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে। তা সত্ত্বেও ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষের বসবাস দারিদ্র্যের সঙ্গে।