১৪ জেলায় ব্যাপক সহিংসতা চার পুলিশসহ নিহত ৩৯

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৮
জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় ঘোষণার পরপরই গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ দেশের প্রায় প্রতিটি জেলার বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এরমধ্যে ঢাকা ছাড়াও ১৩টি জেলায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। নাটোরে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে হত্যা করা হয়। গুলিতে নিহত বাকিদের সিংহভাগই জামায়াত-শিবির কর্মী। সংঘর্ষ চলাকালে অর্ধশতাধিক গুলিবিদ্ধ ও পুলিশসহ কয়েকশ আহত হন। ধারণা করা হচ্ছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহস্রাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে। ব্যাপক সহিংসতা ও সংঘাতের কারণে রাজধানীসহ সারাদেশে বিরাজ করছে আতঙ্ক। সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কায় বুধবার সন্ধ্যা থেকেই রাজধানীতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় গতকাল সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর তাত্ক্ষণিকভাবে বিভিন্ন জেলায় বিজিবি নামানো হয়। ছাত্রশিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পৃথক বিবৃতিতে ছাত্রশিবির দাবি করেছে তাদের ২১ কর্মী নিহত হয়েছেন, জামায়াতের দাবি তাদের মোট ৪৪ জন কর্মীকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী- ঢাকার মিরপুরে ১, রংপুরে ৬, গাইবান্ধায় ৩ পুলিশসহ ৬, সিরাজগঞ্জে ২, দিনাজপুরে ১, নাটোরে ১, নোয়াখালীতে ২ সাধারণ পথচারী, ঠাকুরগাঁওয়ে ৫, চট্টগ্রামে ১, সাতক্ষীরায় ৩, কক্সবাজারে ২, মৌলভীবাজারে ২, বগুড়ায় ১ পথচারী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ জন নিহত হন। সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডাদেশের প্রতিবাদকারীরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হকের বাড়ি ভাঙচুর করে। গাইবান্ধার বামনডাঙ্গায় পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে অস্ত্র লুটে নেয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা। নাটোরেও পুলিশের দুটি শটগান ছিনিয়ে নেয়াসহ পুলিশ ফাঁড়িতে আক্রমণ চালানো হয়। নোয়াখালীতে মন্দির ভাঙচুরের পাশাপাশি একাধিক হিন্দু বাড়িতে হামলা হয়েছে। গাইবান্ধার বামনডাঙ্গায় রেলস্টেশনে ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদে আগুন দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে রেললাইন উপড়ে ফেলে আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা। এতে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোলায় ২০, গাজীপুরে ২ ট্রাকে ও যশোরে ১০টিসহ বিভিন্ন স্থানে শতাধিক যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। কোথাও কোথাও পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর ও তাতে আগুন দেয়া হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ, বাগেরহাট, কসবা, রাজশাহী ও বগুড়াসহ বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। ঢাকায় রূপসী বাংলা হোটেলের (সাবেক শেরাটন হোটেল) সামনে একটি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড পাওয়া যায় এবং সোনারগাঁও হোটেলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মিরপুরে শিবিরের বোমা হামলায় বৃদ্ধ নিহত রাজধানীর মিরপুরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয়ের বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, রাত ৮ টার দিকে মিরপুর-১ নম্বর গোলচক্করে ১০/১২ জন শিবির কর্মী রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের ওপর হামলা চালায়। তারা যাত্রীবাহী বাস লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি বোমা ছুঁড়ে মারে। এতে একটি বোমা রাস্তায় অজ্ঞাত (৬৫) পরিচয়ের বৃদ্ধের শরীরের লেগে বিস্ফোরিত হয়। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিত্সকরা মৃত ঘোষণা করেন। বৃদ্ধের পরনে রয়েছে সাদা চেক লুঙ্গি ও খয়েরি রঙের পাঞ্জাবি। বৃদ্ধকে হাসপাতালে বহন করে নিয়ে আসা তুহিন নামে এক পথচারী জানান, রাত ৮ টার দিকে তিনি দৌড়ে আত্মরক্ষা করার সময় ফুটপাতে তাকে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার ইমতিয়াজ আলম বলেন, বোমা হামলার সময় এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গাইবান্ধায় ৩ পুলিশসহ নিহত ৬ গাইবান্ধা প্রতিনিধি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ৩ পুলিশ কনস্টেবল ও ৩ জামায়াত-শিবির কর্মী বৃহস্পতিবার নিহত হয়েছেন। নিহত পুলিশ কনস্টেবলরা হল বাবলু মিয়া, নাজিম উদ্দিন ও হজরত আলী। নিহত জামায়াত-শিবির কর্মীদের নাম জানা যায়নি। পুরো সুন্দরগঞ্জ এখন জামায়াত -শিবির কর্মীদের দখলে। জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশ ঘোষণার পর পরই জামায়াত-শিবির কর্মীরা বামনডাঙ্গা রেল স্টেশন, সুন্দরগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়, কয়েক আওয়ামী লীগ নেতার ঘরবাড়ী আগুন দিয়ে পুড়ে দেয়। বামনডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়িও লুট করে জামায়াত -শিবির কর্মীরা। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেল ৪টার দিকে জামায়াত-শিবির কর্মীরা সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা রেল স্টেশনে হামলা চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকটি রেল লাইন উপড়ে ফেলে। খবর পেয়ে বামনডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবু হানিফ স্থানীয় জনতার সহায়তার স্টেশন এলাকায় গিয়ে জামায়াত-শিবির কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে তারা পুলিশের উপর আক্রমণ ও গুলি ছুঁড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুঁড়ে। এ সময় স্থানীয় জনতা পিছু হটে যায়। এক পর্যায়ে পুলিশের গুলি শেষ হয়ে গেলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা পুলিশকে ধাওয়া করে। এসময় পুলিশ পিছু হটে বামনডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়িতে অবস্থান নেয়। জামায়াত-শিবির কর্মীরা সেখানে হামলা চালিয়ে পুলিশ সদস্যদের বেদম প্রহার ও লুটপাট করে। এতে পুলিশ কনস্টেবল নাজিম উদ্দিন, বাবলু মিয়া ও হজরত আলী নিহত এবং পাঁচ পুলিশ আহত হয়। এদিকে রায় ঘোষণার পর পর কয়েক হাজার জামায়াত-শিবির কর্মী সুন্দরগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়সহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বসতবাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর তারা থানা ঘেরাও করে হামলা চালালে পুলিশ গুলি ছুঁড়ে। গুলিতে ৩ জামায়াত-শিবির কর্মী নিহত ও শতাধিক আহত হয়। এছাড়াও স্থানীয় প্রায় দেড় শতাধিক আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ইউএনও অফিস, উপজেলার বেলকা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ভাংচুর এবং উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাকুলির বাস ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। অন্যদিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর মহেশপুর, সাদুল্লাপুরের গোসাইজানি ব্রিজ এলাকা এবং গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের অধিকাংশ এলাকায় অবস্থান নিয়ে সড়কের গাছ কেটে রাস্তা অবরোধ করায় জেলা সদরের সাথে গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী উপজেলার এবং ঢাকার সাথে গাইবান্ধার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পুলিশ সুপার এ কে এম নাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বামনডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট হলেও কোন অস্ত্র খোয়া যায়নি। রংপুরে সংঘর্ষে ৬ জন নিহত রংপুর প্রতিনিধি জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার মিঠাপুকুর উপজেলায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশ, বিজিবি ও র্যাবের ঘন্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৬ জন জামায়াত-শিবির নেতা নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন, উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়ন জামায়াতের সদস্য সাহেদ আলী (৪৫), শিবির মিঠাপুকুর দক্ষিণ শাখার সেক্রেটারী মশিউর রহমান (২২), শিবির কর্মী সাদেকুল ইসলাম (২৪), আশিকুর রহমান (২১), রবিউল ইসলাম, আশিকুর রহমান, মাহমুদুল হাসান। সংঘর্ষ চলাকালে ১৫ জন গুলিবিদ্ধ এবং পুলিশসহ আহত হয়েছে ২ শতাধিক। এ সময় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিসে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করলে অফিসের আসবাবপত্র পুড়ে ভস্মীভূত হয়। তবে মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতের আমীর গোলাম রব্বানী দাবি করেন, পুলিশ ও বিজিবি’র গুলিতে জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রশিবিরের ৬ জন নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি জানান, তাদের হেফাজতে ৪ জনের লাশ রয়েছে। বাকি ২ জনের লাশ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়ে গেছেন। জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মদ জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মিঠাপুকুরে বিজিবি মোতায়েন থাকবে। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করেছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার রায় ঘোষণার আগেই জামায়াত-শিবিরের হাজার হাজার নেতাকর্মী মিঠাপুকুর উপজেলায় তাদের দলীয় কার্যালয়ের কাছে সমবেত হতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সেখানে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। রায় ঘোষণার পর বিকেল ৩টার দিকে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা উপজেলার রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে গিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশ এতে বাধা দেয়। এ সময় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল, বোমা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে তারা আগ্নেয়াস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব রাবার বুলেট, টিয়ারসেলসহ গুলিবর্ষণ করে। মুহূর্তেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ অফিসে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আগুন নেভাতে গেলে তাদেরকে বাধা দেয়াসহ হামলা চালানো হয়। এ সময় তারা সোনালী ব্যাংকেও হামলা চালায়। ঘন্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলাকালে ৪ জন জামায়াত-শিবির নিহত ও ১৫ জন গুলিবিদ্ধ এবং পুলিশসহ আহত হয়েছে ২ শতাধিক। গুলিবিদ্ধ ও আহতদের মধ্যে ৬০ জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। বর্তমানে গোটা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। জামায়াতের ৫ জন নিহত ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা গড়েয়া জামায়াত-শিবিরের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে ৫ জামায়াত-শিবির কর্মী নিহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছে আরো ১২ জন। সংঘর্ষে বিজিবি ও পুলিশের ৭ সদস্য আহত হয়েছেন। নিহত ৫ জন হলেন ছাত্রদলের মনির উদ্দিন (১৮) ও যুবদলের ফিরোজ (২৪), শিবির কর্মী সুমন (২৫) ও রুবেল (২০), গ্রামবাসী মিঠুন (২৬) । গুলিবিদ্ধরা হলেন জেমি (৩০), বিপ্লব (২৫), আমিনুল (২৮), দাইমুল (৩০)। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাইদীর মৃত্যুদন্ড আদেশের পর জামায়াত-শিবির কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে দোকানপাট ভাংচুর করে। পুলিশ ও বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টার করলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা পুলিশের উপর হামলা চালায়। চারদিক থেকে জামায়াত-শিবির আক্রমণ করলে আত্মরক্ষায় পুলিশ ও বিজিবি ৭০/৮০ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। এতে ৫ জন নিহত হন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বর্তমানে ওই এলাকায় উপ্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে । সাতক্ষীরায় নিহত ৩ সাতক্ষীরা প্রতিনিধি সাতক্ষীরায় জামায়াত-শিবিরের সাথে পুলিশ-বিজিবির ব্যাপক সংঘর্ষে তিন জামায়াত-শিবির কর্মী নিহত এবং সাংবাদিক ও পুলিশসহ ২৫ জন আহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সাতক্ষীরার কদমতলা থেকে জামায়াত-শিবির কর্মীরা মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ ও বিজিবি বাধা দেয়। তাদের বাধা উপেক্ষা করে জামায়াত-শিবিরের মিছিলটি শহরের দিকে প্রবেশের চেষ্টা করলে উভয়ের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় পুলিশ কয়েকশ রাউন্ড রাবার বুলেট গুলি, কাদানো গ্যাস ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। জবাবে জামায়াত-শিবির কর্মীরা কয়েকটি ককটেল ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এসময় জামায়াত-শিবিরের তিনজন নিহত ও পুলিশ কনস্টেবল রিয়াজুল ও সাংবাদিক আহাদসহ ২৫ জন আহত হয়। আহত পুলিশ কনস্টেবল রিয়াজ ও আহাদের অবস্থা আশংকাজনক। নিহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। কুমিল্লা জামায়াতে ইসলামীর ডাকা বৃহস্পতিবারের সকাল-সন্ধ্যা হরতালে কুমিল্লায় ব্যাপক হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাঈদীর মামলার রায় ঘোষণার পর কমিল্লায় যুবলীগ-ছাত্রলীগ কর্মীরা নগরীতে জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত হাসপাতাল, ব্যাংক ও হোটেল ভাংচুর করে। দুপুরে রায় ঘোষণার পর নগরীর লাকসাম রোডে যুবলীগ-ছাত্রলীগ কর্মীরা জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে তারা ওই রোডের কুমিল্লা টাওয়ারের মেডিক্যাল সেন্টার, কুমিল্লা টাওয়ার শপিং কমপ্লেক্স, ইসলামী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ও হোটেল সালাহউদ্দিন, পপুলার হাসপাতাল, কুমিল্লা সেন্ট্রাল হসপিটাল ও নগরীর রানীর বাজার সড়কে ইসমালী ব্যাংকের ২টি এটিএম বুথ, গোমতী হাসপাতাল ও ইসলামীয়া বেকারি, কনফেকশনারী ভাংচুর করে। দুপুরে নগরীর লাকসাম রোডের মনোহরপুরে ও রানীর বাজার এলাকায় বিকট আওয়াজে কমপক্ষে ১০/১২টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসময় নগরীতে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল সাঈদীর বিরুদ্ধে আদালতের দেয়া রায়ের বিপক্ষে নগরীর মনোহরপুরে বেলা সোয়া ২টার দিকে জামায়াত-শিবির মিছিল বের করে। এসময় পুলিশ ওই মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এছাড়া এ হরতালে জামায়াত-শিবিরের কোন পিকেটিং লক্ষ্য করা যায়নি। ফেনী রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ জামায়াত-শিবিরের ৭ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। রায় ঘোষণার পর বিকালে শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। পুরো শহরে ককটেল বিস্ফোরণ করে। শহরে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি টহল দিতে দেখা যায়। ফেনীতে জামায়াতে ইসলামীর ডাকা বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে শহরের এসএসকে সড়কে শিবির নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিলের করলে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। শহরের সকল গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পিকেটাররা টায়ার জ্বালিয়ে, রাস্তায় বাঁশ ফেলে, ব্যারিকেড দিয়ে, মিছিল ও সমাবেশ করে হরতাল পালন করছে জামায়াত ইসলামী নেতাকর্মীরা। হরতালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দিলে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় শিবির কর্মীরা ৫-৬টি সিএনজি চালিত অটোরিক্সার কাঁচ ভাংচুর করেছে। চুয়াডাঙ্গা চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বদরগঞ্জ বাজার পয়েন্টে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীরা সকালে ফজরের নামাজের পর থেকে অবরোধ সৃষ্টি ও বেড়িকেট করে রাখে। এ সময়ে অবরোধ ও বেড়িকেট সৃষ্টিকারীরা ঐ সড়কে সকল প্রকারের চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ দিকে ঐ অবরোধ ও বেড়িকেট সৃষ্টির খবরে চুয়াডাঙ্গা জেলা সদর থেকে বেলা ৯টায় ঘটনাস্থল বদরগঞ্জ বাজারে পুলিশ পৌঁছায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে অবরোধ ও বেড়িকেট সৃষ্টিকারীরা ধীরে ধীরে আপনা-আপনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। উল্লেখ্য, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দয়িত্বশীল ব্যক্তি জানান, উল্লেখিত কর্মসূচিতে বিএনপির কিছু সংখ্যক স্থানীয় কর্মীও অংশ গ্রহণ করেছিল। বিয়ানীবাজার দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষণার পরই বিয়ানীবাজারে তাণ্ডব ছড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। তারা মিছিল শেষে শহরের উত্তর বাজারে মিষ্টি বিতরণ করতে থাকে। তাত্ক্ষণিক রায়ের প্রতিবাদে ইসলামী ছাত্র শিবির বিয়ানীবাজারে একটি মিছিল দক্ষিণ বাজার থেকে বের হয়। তারা মিছিল থেকে ব্যাংক এশিয়া এবং পূবালী ব্যাংকে হামলা চালায়। পুলিশ এসময় বিক্ষোভকারীদের দমাতে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এতে ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা পিছু হটে। পরবর্তীতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ইসলামী ব্যাংক, জামায়াত-শিবিরের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জামায়াতের আমীর মাওলানা ফয়জুর রহমানের রাকাম, তামাম, তুনজিসহ বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ইসলামী ছাত্র শিবিরের অফিস ভাংচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ শিবির সন্দেহে আবুল হাসনাত (১৮) নামে একজনকে আটক করেছে। বাগেরহাট বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় ইসলামী ছাত্র শিবির কর্মীদের হামলায় কচুয়া থানার উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়েছেন। সাইফুল ইসলামকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ:নারায়ণগঞ্জে বৃহস্পতিবার সকালে একটি ট্রেনে লাল রংয়ের স্কচটেপ মোড়ানো বস্তু উদ্ধার নিয়ে তোলপড়া সৃষ্টি হয়। ট্রেনের ভেতরে একটি বগির সিটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় বস্তু দুটি। পরে পরীক্ষা করে জানা যায় জর্দার কৌটায় স্কচটেপ মুড়িয়ে শুধু আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ওই দুটি বস্তু ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় সকাল ৯টা ২০ মিনিট হতে দুপুর ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। লক্ষ্মীপুর:জামায়াত নেতা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার সাথে সাথে লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন স্থানে হামলা ভাংচুর, পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, বাস টার্মিনাল ও দক্ষিণ তেমহনীতে গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ ১১ শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করে। পুরো জেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শহরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। খুলনা:জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতাল গতকাল বৃহস্পতিবার বিভাগীয় শহর খুলনায় নিরুত্তাপভাবে পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে নগরীতে হরতালের সপক্ষে কোন মিছিল দেখা যায়নি। হরতাল চলাকালে নগরীর অধিকাংশ দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিল। অফিস-আদালতের প্রধান ফটক বন্ধ থাকলেও যথারীতি লেনদেন হয়েছে। হরতাল চলাকালে খুলনা থেকে দূরপাল্লার কোন বাস-ট্রাক ছেড়ে যায়নি। তবে ট্রেন ও লঞ্চ যথাসময়ে গন্তব্যস্থলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। নগরীর সড়কগুলোতে ইজিবাইক, বেবিট্যাক্সি ও রিকশা চলাচল করেছে প্রায় স্বাভাবিকভাবে। দুপুরে পুলিশ নগরীর জজকোর্ট এলাকা থেকে ৬ জন এবং নগরীর গল্লামারী এলাকা থেকে ৬ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন- শহীদ, শোয়েব, জিয়াউর রহমান, শফিকুর রহমান, আমিনুল হক, আনিসুর রহমান, ওমর শরিফ, শাহাব উদ্দিন, মিজানুর রহমান বাবু, আসাদুজ্জামান, সজল ও জাকির মোল্লা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া:সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি নতুনবাজার এলাকায় পৌঁছার পর পুলিশ বাধা দিলে হামলা চালায় মিছিলকারীরা। এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে জামায়াত-শিবিরের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় ৫ পুলিশ, সাংবাদিকসহ ১৫ জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও শর্টগানের গুলি ছুঁড়লে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। বিকালে কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মোঃ আজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে তারা জামায়াত-শিবিরের অফিস ভাংচুর করে মালামাল পুড়িয়ে দেয়। মিছিলকারীরা ইসলামী ব্যাংকের গ্লাস ভাঙচুর করে। জেলা সদর থেকে ডিবি পুলিশ, দাঙ্গা পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। যশোর:সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর যশোরে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত শিবির কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশ প্রায় ২০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে। সংঘর্ষ ও গুলিতে ৩ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাংচুর করেছে শিবির কর্মীরা। যশোর-খুলনা মহাসড়কের রূপদিয়ায় বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে শুরু হয়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপি এ সংঘর্ষ চলে। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ গেলে জামায়াত শিবির কর্মীরা পিছু হটে যায়। উখিয়া:রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের ডাকা হরতালে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়ার হিজলিয়া এলাকায় ২টি, দুপুর ৩টার দিকে কুতুপালং এলাকায় ১টি টমটম ভাংচুরসহ বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যদিয়ে উখিয়ার সর্বত্র হরতাল পালিত হয়েছে। দুপুর ২টার দিকে ঘোষণার পরপর উখিয়া সদর, কোটবাজার,মরিচ্যাসহ বিভিন্নস্থানে লোকজনের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে এবং দোকান পাট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর আড়াইটার দিকে উখিয়া সদর ও কোটবাজারে কয়েকজন লোক সাঈদীর বিরুদ্ধে দেয়া রায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল চেষ্টা করলে কোটবাজারে পুলিশের টিয়ারসেল নিক্ষেপে জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। কসবা:ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে জামায়াত শিবির সাথে পুলিশের সংঘর্ষে এক এস.আইসহ ৪ জন পুলিশ আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ প্রায় ৫০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। জামায়াত শিবিরের সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশ পিছু হটলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। এদিকে জামায়াত শিবিরের লোকজন এ.এসআই হুমায়ুন কবিরকে মারধোর করে তুলে নেয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে থানায় পৌঁছে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় কসবা থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মো. মোরশেদ আলম, কনস্টেবল রাকিব হোসেন (২৭), আবু ইউসুফ (২৯), আল-হেলালকে (৩২) কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গাজীপুর:ফাঁসির রায় ঘোষণার পর গাজীপুরে হরতাল সমর্থকরা একটি ট্রাকে আগুন দেয়। এ সময় ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে কয়েকটি যানবাহনের কাঁচ ভাংচুর করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে ঢাকা বাইপাস সড়কের গাজীপুর সদর উপজেলার ভোগড়া বাইপাস পেয়ারা বাগান নামক স্থানে হরতাল সমর্থকরা একটি ট্রাক থামিয়ে ভাংচুর করে ইঞ্জিনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এলাকাবাসী পানি ছিটিয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর সদর উপজেলার তেলিপাড়া এলাকায় কয়েকজন হরতাল সমর্থকরা চলন্ত গাড়িতে বিক্ষিপ্তভাবে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এছাড়া সকালে কয়েকটি স্থানে হরতাল সমর্থকরা টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়। মহেশপুর: মহেশপুরে জামায়াত কর্মী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার এস আইসহ ৬ জন আহত হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেছে। জামায়াত কর্মীরা রক্তাক্ত স্বাধীনতা ভাস্কর্য ও দোকান পাট আওয়ামী লীগ অফিস ভাংচুর করেছে। নোয়াখালীতে পুলিশের গুলিতে নিহত ২ নোয়াখালী প্রতিনিধি ঃ রায় ঘোষণার আধ ঘন্টা পর দুপুর আড়াইটা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত জেলায় জামায়াত-শিবির কর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিতে জেলা শহর ও বেগমগঞ্জে ২ জন নিহত হয়। জামায়াত-শিবির কর্মীরা বেগমগঞ্জের রাজগঞ্জ গ্রামের ৫টি হিন্দু বাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং একটি মন্দির ভেঙ্গে দেয়। জেলা শহরে ২টি স্থানে ও বেগমগঞ্জের রাজগঞ্জে এ সব ঘটনা চলাকালে পুলিশ কয়েক’শ রাউন্ড শট গানের গুলি ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এতে কমপক্ষে ৪ পুলিশসহ দেড় শতাধিক আহত হয়। সন্ধ্যার পর আরো ২ জনের মৃত্যুর সংবাদ জানা গেলেও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ সব ঘটনায় পুলিশ কমপক্ষে ১৫ জনকে গ্রেফতার করে। প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে জেলা শহর মাইজদীর দত্তের হাটে। এ স্থানে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে জামায়াত-শিবির কর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের শট গানের গুলিতে এলাকার পশ্চিম শাহাপুর গ্রামের মুজিবুল হকের পুত্র পিক-আপের হেলপার খোকন (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সে মারা যায়। এ সময় দত্তের হাট এলাকার আল আমিন পরিবহনের একটি ডিপুতে জামায়াত-শিবির কর্মীরা ৮টি বাস এ অগ্নি সংযোগ করে এবং আরো ৭টি বাস ভাংচুর করে। হামলা এর আগে শহরের পৌর বাজারের সামনে শিবির কর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ অর্ধ শতাধিক রাউন্ড শট গানের গুলি ছুড়ে তাদেরকে ছত্র ভঙ্গ করে দেয়। দুপুর আড়াইটার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ গ্রামের ৫টি হিন্দু বাড়িতে জামায়াত-শিবির কর্মীরা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং একটি মন্দির ভাংচুর করে। এতে ২৫-৩০টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে জামায়াত শিবির কর্মীরা পুলিশের উপর হামলা করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। কয়েক দফা সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ অসংখ্য শট গানের গুলি ছুড়ে। এ সময় শট গানের গুলিতে ঘটনাস্থলে নিহত হয় পথচারী ঐ এলাকার আলমপুর গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী লিটন (২৫)। আহত হয়েছে শতাধিক। রাজগঞ্জের পরিস্থিতি অত্যান্ত নাজুক এবং শহরের দত্তের হাট এলাকা উত্তপ্ত রয়েছে। যে কোন সময় বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটতে পারে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। কক্সবাজারে নিহত দুই কক্সবাজার ঃ কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও এবং পেকুয়ায় জামায়াত-শিবির কর্মীদের মিছিলকে কেন্দ্র পুলিশের সাথে সংঘর্ষে পুলিশের গুলীতে মোহাম্মদ সাজ্জাদ নামের এক শিবির কর্মীসহ ২ জন নিহত এবং অর্ধ-শতাধিক আহত হয়েছে। জামায়াত-শিবির কর্মীরা কক্সবাজারসহ বিভিন্নস্থানে অর্ধ শতাধিক গাড়ী ভাংচুর এবং রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচলে বাধা দিচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাঈদীর বিরুদ্ধে রায়ের ঘটনায় কক্সবাজারের পেকুয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার আছরের নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। এসময় পুলিশ মিছিলে বাধা দিলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে বিকাল পৌনে ৫টার দিকে পুলিশের গুলিতে বরইতলী পহঁরচান্দা মাদ্রাসার ছাত্র ও শিবির কর্মী মোহাম্মদ সাজ্জাদ (১৮) ঘটনাস্থলে নিহত হয়। এসময় আহত হয় আরও অন্তত ২৫ জন। অন্যদিকে কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওতে বিকাল ৩টার দিকে জামায়াত-শিবির কর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন গুলীবিদ্ধসহ ২৫ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঈদগাঁও’র হাজী ইলিয়াছের ছেলে মোহাম্মদ রশিদ (৪০), মোহাম্মদ শফির ছেলে শফি আলম (১৯) ও অলি আহমদের ছেলে মোহাম্মদ সোহেলকে (১৫) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরমধ্যে মোহাম্মদ রশিদের অবস্থা আশংকাজনক বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছে। কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীমউদ্দিন জানান, ঘটনার পর পুলিশ ঈদগাঁও থেকে ৯ সন্দেহভাজন শিবির কর্মীকে আটক করেছে। সিরাজগঞ্জে নিহত ২ ফজল-এ-খোদা লিটন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ সিরাজগঞ্জে পুলিশ ও জামায়াত—শিবিরকর্মীদের সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও অন্ততঃ ২৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার চন্ডিদাসগাতিতে রাস্তায় কাঠেরগুল ফেলে জামায়াত—শিবিরকর্মীরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ বাধা দিলে একপর্যায়ে কামারখন্দ, রায়গঞ্জ ও সদর উপজেলার বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে চারিদিক ঘিরে ফেলে জামায়াতকর্মীরা পুলিশ ও র্যাবের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় বিপুল সংখ্যক র্যাব ও পুলিশ মুহুর্মুহু টিয়ারসেল, রাবার বুলেট ও পিস্তলের গুলি নিক্ষেপ করেন। এসময় অন্ততঃ ২৫ শিবির নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। হাসাপাতালে নেয়ার পথে রাজাখাঁর চরের আলমগীর খানের ছেলে নুরুল্লা খান (২৫) এবং হাসপাতালে ভর্তির পর চণ্ডিদাসগাতি গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে রুহুল আমিন (১৬) মারা যায়। এদিকে, ২ শিবিরকর্মী নিহত ও ২৫ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রতিবাদে রবিবার সিরাজগঞ্জ জেলায় অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছে জামায়াত ইসলামী। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা জামায়াতের আমীর এ্যাডঃ আব্দুল লতিফ এ তথ্য জানান। বড়লেখায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ২ মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার কাঁঠালতলী বাজারে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ আরো ১০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বড়লেখা উপজেলা জামায়াতের ইসলামীর সাধারণ সমপাদক ফয়ছল আহমদ নিহত দুইজন তাদের কর্মী বলে দাবি করেছেন। এ দিকে, একই উপজেলার দক্ষিণভাগ বাজারে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ ও শিবিরের সংঘর্ষে পুলিশসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এসময় ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের ৩ জনকে আটক করে পুলিশ। বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানান, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পরই জামায়াত-শিবির মিছিল নিয়ে বের করে। এ সময় পুলিশ তাতে বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদ চট্টগ্রামে সহিংসতায় ২ জন নিহত আহত অর্ধশতাধিক চট্টগ্রাম অফিস ঃ গতকাল মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-শিবিরের সাথে পুলিশে ব্যাপক সংঘর্ষে অন্ততঃ ২ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। এছাড়া আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, আনোয়ারা এবং চট্টগ্রাম শহরে পুলিশের সাথে জামায়াত শিবিরের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ৪০ শিবির কর্মীকে আটক করা হয়েছে। দুপুরে সার্সন রোড এলাকায় হরতাল বিরোধী মিছিল করার সময় ছাত্রলীগের ৫ কর্মীকে ধারালো অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। এসময় রাস্তায় যানবাহন চলাচল কমে যায়। সকালের দিকে শহরে কিছু কিছু দোকানপাট খোলা থাকলেও সন্ধ্যার পর সেগুলো বন্ধ করে দেন দোকান মালিকরা। শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও র্যাবের টহল জোরদার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীর জানান, দুপুরে নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় ছাত্রলীগ যুবলীগ কর্মীদের সাথে শিবির কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। শিবির কর্মীরা এলাকায় ব্যাপক ভাংচুর চালান। এসময় নিউ মার্কেট সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেটের সামনে দেদার হোসেন (৬০) নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। তিনি মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে অফিস সহকারি হিসেবে কাজ করতেন। আধঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষের পর পুলিশ সন্দেহভাজন ১৯ শিবির কর্মীকে আটক করে। বিকালে নগরীর চট্টেশ্বরী মোড় থেকে কাজীর দেউড়ি মোড় পর্যন্ত এলাকায় শিবির কর্মীদের সাথে পুলিশের আরেক দফা সংঘর্ষ হয়। এসময় প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় ২ হাজার শিবির কর্মীর একটি মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এসময় কাজীর দেউড়ি মোড়ে ১ পুলিশ গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১০ শিবিরকর্মীকে আটক করে। এদিকে রায় ঘোষণার পর লোহাগাড়া উপজেলার সদর এলাকায় চট্টগ্রাম কক্সবাজার সড়কের বটতলী-আমিরাবাদে জামায়াত-শিবির কর্মী-সমর্থকরা রাস্তায় অবরোধ সৃষ্টি করে। তারা এলোপাতাড়ি দোকানপাট ও যানবাহন ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পুলিশ টিয়ারসেল, রাবার বুলেট এবং গুলিবর্ষণ করে। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরাও শিবিরের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। জামায়াত শিবিরের কর্মীরা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পরিষদ, প্রাইম লাইফ ইন্সুরেন্স, এশিয়া ব্যাংক ও যমুনা ব্যাংকের কাঁচ ভাংচুর করে। তাদের আহতদের চিকিত্সা না দেয়ায় মা-মনি হাসপাতালও ভাংচুর চালায়। জামায়াত-শিবির, পুলিশ ও ছাত্রলীগের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে আশপাশের বেশকিছু দোকানপাট ভাংচুর হয়। এখানে মেজবা (১৮) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো ১৫ জন। সাঈদীর রায়ের পর লোহাগাড়ার পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে জামায়াত-শিবির বিক্ষোভ মিছিল এবং ভাংচুর চালায়। এ সময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ২ জন পুলিশ সদস্যসহ ১০ থেকে ১৫ জন জামায়াত শিবির কর্মী আহত হয়। কেরানীহাট এলাকায় সকাল থেকে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হলেও অপরাহ্নে জামায়াতের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীর হামলায় পুলিশকে এক প্রকার অসহায় দেখা যায়। পুলিশ গুলিবর্ষণসহ ফাঁকা গুলি চালালেও জামায়াত-শিবির পিছু হটেনি। বরং তারা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে হামলা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২টি গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। তারা ওই এলাকায় অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। বিপুল সংখ্যক দোকানপাট এবং প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে। এখানে শাহ আমানত ক্লিনিক ও অলকেয়ার ক্লিনিক নামে দু’টি চিকিত্সা কেন্দ্র ভাংচুর করা হয়। এছাড়াও পূর্বালী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকের ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়। পুলিশ কেরানিহাট এলাকা থেকে জাফর, আনিসুর রহমান ও সাজ্জাত নামে তিন শিবির কর্মীকে আটক করে। রায়ের পর জেলার বাঁশখালী উপজেলা এলাকায় কয়েক হাজার জামায়াত-শিবির পুরো উপজেলা সদরের নিয়ন্ত্রণে নেয়। সড়কে যে সকল পুলিশ টহল দিচ্ছিল তারাও আত্মরক্ষায় পালিয়ে যায়। থানা পুলিশ নিজেদের গুটিয়ে থানার মধ্যে অবস্থান করে। এ সময় অনেক মহিলাদেরও রাস্তায় নেমে মিছিল করতে দেখা যায়। জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা এক প্রকার অরক্ষিত উপজেলা পরিষদ ও আদালত ভবন, অফিসার্স ক্লাব, পৌরসভায় হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। তারা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দোকানপাট ভাংচুর করে। বিপুল সংখ্যক যানবাহনও ভাংচুর চালায়। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত জামায়াত-শিবির লোকজন থানা ঘেরাও করে রাখে। থানা ভবন থেকে পুলিশও ফাঁকা গুলি চালায়। সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালী সংবাদদাতাগণ জানান, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশের সাথে জামায়াত শিবিরের সংঘর্ষের পর এলাকাসমূহে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। লোকজন ও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যায় এলাকাসমূহে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকার লোকজন আতংকের মধ্যে রয়েছে। জেলার সীতাকুন্ড উপজেলায়ও সকাল থেকে জামায়াত-শিবির হরতালের সমর্থনে মিছিল করে এবং টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছ ফেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিভিন্ন এলাকায় অবরোধ সৃষ্টি করে। তারা দু’টি স্থানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল লাইনের ব্রিজেও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালায়। অপরাহ্নে সীতাকুন্ডের কুমিরা এলাকায় পুলিশের সাথে জামায়াত শিবিরের সংঘর্ষে ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়। এদের মধ্যে ১ জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিহত ১ চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ রায় ঘোষণার পর শিবগঞ্জের কানসাটে পল্লী বিদ্যুতের অফিসে অগ্নিসংযোগ করে জামায়াত শিবিরের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। তারা বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সোনামসজিদ পর্যটন মটেলের দায়িত্ব প্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী তৌহিদুল ইসলামকে পর্যটন মোটেলের ৩ তলা থেকে নিচে ফেলে দেয়া হলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। জেলা শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুপুর আড়াইটার দিকে বিক্ষুব্ধ জামায়াত-শিবির কর্মীরা বিআরটিসিসহ ৫টি গাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া বারোঘরিয়া, বি্শ্বরোড মোড়, সিসিডিবি মোড়, হরিপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বিপুল সংখ্যক যানবাবহনে ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়। মহানন্দা সেতু এলাকায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী ভবনেও ভাংচুর চালানো হয়। এসময় বিভিন্ন স্থানে বেশকিছু ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শিবগঞ্জ উপজেলা সদরে সেলিমাবাদ এলাকায় বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হকের বাড়ীর গেটে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে জামায়াত কর্মীরা । উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলা সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। ভোলাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদ সারওয়ার্দী জানান, জামায়াতের মিছিল থেকে পুলিশের উপর হামলা চালালে দুই কনস্টবল আহত হয় এবং পুলিশ টিআর শেল ও এক পর্যায়ে গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কানসাটে দুপুরে হরতাল সমর্থকদের ইটের আঘাতে এক বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন। আহত বিজিবি সদস্য হাবিলদার মফিজ উদ্দিনকে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। দিনাজপুরে নিহত ১ স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ঃ দিনাজপুরে জামায়াত-শিবিরের সাথে পুলিশ ও বিজিবি’র সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। সংঘর্ষে ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এতে ২ পুলিশসহ ১০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় পুলিশ ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১০ রাউন্ড টিআর সেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে দিনাজপুরের দশমাইল সদরপুর এলাকায় টেক্সটাইল পাওয়ার হাউসের সামনে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা হরতালের পিকেটিং করছিল। এ সময় দু’টি পুলিশের ভ্যান সেখানে গেলে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল দিয়ে পুলিশের উপর আক্রমণ চালায়। এতে পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় পুলিশ ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১০ রাউন্ড টিআর সেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থলে ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়। সংঘর্ষে ২ জন পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪ প্লাটুন বিজিবি ঘটনাস্থলে আসে। এক পর্যায়ে বিজিবি দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কের উপরে অবস্থান নিলে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পার্শ্ববর্তী মাঠে অবস্থান নেয়। লালপুরে নিহত ছাত্রলীগ কর্মী লালপুর (নাটোর) সংবাদদাতা ঃ বৃহস্পতিবার দুপুরে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মৃত্যুদন্ডের রায় ঘোষণার পর নাটোরের লালপুর উপজেলার কদিমচিলান নামক স্থানে জামায়াত শিবির কর্মীদের হামলায় খায়রুল ইসলাম (২৮) নামের এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত এবং পুলিশের ২ এসআইসহ ৫পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের ১টি চাইনিজ রাইফেল, ২টি শর্ট গান এবং ৫৫ রাউন্ড গুলি লুট হয়। শিবির কর্মীরা একটি দোকান ভাংচুর ও ১টি বাড়ি ও পুলিশের সিএনজি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ ফাঁকা মাঠ ও খড়ের গাদার মধ্যে থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় খোয়া যাওয়া অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে। নিহত খায়রুল ঐ গ্রামের দৌলত হোসেনের পুত্র। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মৃত্যুদন্ডের রায় ঘোষণার প্রতিবাদে কদিমচিলান এলাকার জামায়াত শিবির কর্মীরা ঝাটামিছিল বের করে কদিমচিলান মোড়ে আওয়ামী লীগের এক কর্মীর মুদি দোকানে ভাংচুর করে। পরে ছাত্রলীগ কর্মী খায়রুল ইসলামের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় খায়রুল বাইরে বের হলে তার উপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। একই সময়ে তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালালে লালপুর থানার এস আই সাইফুল ইসলাম, ওয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আব্দুর রউফ, হাবিলদার আব্দুল মান্নান, কনস্টেবল আনিসুর রহমান ও সাইদুর রহমান আহত হয়। সিলেট অফিস ঃ সিলেটে জামায়াত-শিবির আহূত হরতাল সহিংস ঘটনার মধ্য দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে নগরীর কয়েকটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি ঃ গতকাল বৃহস্পতিবার সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর ও মহেশপুরে জামায়াত-শিবিরের সাথে পুলিশের তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে কোটচাঁদপুর থানার ওসি মনিরুদ্দিন মোল্লা ও মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কালাম আজাদসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। আহতদের কোটচাঁদপুর, মহেশপুর ও যশোর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন। বরিশাল অফিস ঃ হরতালে ভোর পৌনে ৬টার দিকে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের কাশিপুর হাইস্কুল এলাকায় একটি ট্রাকে ভাংচুর শেষে আগুন ধরিয়ে দেয় শিবির কর্মীরা। এরপূর্বে নগরীর আবহাওয়া অফিস এলাকায় সড়কে গাছ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে। সেখানে গাছে ও টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার বামরাইলে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে পশ্চিম জেলা ছাত্র শিবির। এসময় পুলিশ বাধা দিলে উভয় পক্ষে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে।